Home / আমরা কারা / সম্পাদকীয়

সম্পাদকীয়

লোহাগাড়াবিডি.কম এ স্বাগতম

সুজলা-সুফলা শস্য-শ্যামল আমাদেরই লোহাগাড়া উপজেলা। মাঠের পর মাঠ, এঁকে-বেঁকে বয়ে চলেছে নদী, প্রাকৃতিক নৈসর্গিক সৌন্দর্যের আঁধার চুনতি  অভয়ারণ্য, ছোট বড় পাহাড়ে ঘেরা মানুষের বসবাস, চারিদিকে সবুজের সমারোহ, চাম্বি লেক, ছোট-বড় বৃক্ষরাজিতে ভরপুর লোহাগাড়া উপজেলা।

বিভিন্ন ধর্ম, বর্ণের বিভিন্ন পেশাজীবির মানুষ মিলে-মিশে একসঙ্গে বসবাস করে এই উপজেলায়। এখানে ধর্মীয় সম্প্রীতির অসাধারণ দৃষ্টান্ত রয়েছে। এই অপরূপ দৃশ্য দেখলে যে কারো মন ভরে যায়। শিক্ষা-দীক্ষায়ও অনেক এগিয়ে গেছে এই উপজেলা। এই উপজেলারও রয়েছে একটি প্রাচীন ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি। অনেক প্রাকৃতিক নিদর্শন, প্রাচীন স্থাপনা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, প্রাচীন জনপদ, ঐতিহাসিক স্থান ইত্যাদি ইতিহাস, ঐতিহ্য রয়েছে। প্রতিটি অঞ্চলের তার স্বাতন্ত্র্য কিছু বৈশিষ্ট্য, কৃষ্টি-সংস্কৃতি থাকে। আমরাও এর ব্যতিক্রম নয়। আমাদেরও রয়েছে প্রাচীন সংস্কৃতি। যেটা যুগযুগ ধরে আমাদের পূর্বপুরুষেরা পালন করে এসেছেন।

বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে যুগে যুগে জন্ম নিয়েছেন বহু সুফি-সাধক, উঁচু মানের আলেম, আল্লাহর প্রকৃত আশেক, দেশের শীর্ষ শিল্পপতি, উঁচু মাপের রাজনীতিবিদ, শিক্ষাবিদ, অর্থনীতিবিদ, দেশ বিদেশের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপচার্য, অধ্যাপক, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব, সরকারি-বেসরকারি উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা এবং দেশ-বিদেশের সেরা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাসহ আরো অনেক জ্ঞানীগুণী মানুষের জন্ম এই পূণ্যভূমিতে। ছোট মানচিত্রের এই উপজেলাশ যেন সবকিছু বিরাজমান করছে। যার ফলে এই এলাকার অর্থনীতির চাকা সচল রয়েছে। এখানকার কৃষি খাতেও রয়েছে অভাবনীয় সাফল্যের এক ইতিহাস। এই অঞ্চলের জনগোষ্ঠি স্বভাবতই খুবই শান্তপ্রিয় হয়ে থাকেন বলে লোকমুখে এটি সুনাম সাথে শোনা যায়।

দেশের বিখ্যাত কয়েকজন ব্যক্তিবর্গের জন্মও এই প্রিয় উপজেলায়। যাঁদের ছাড়া বাংলা সংস্কৃতি এতো সমৃদ্ধ হতো না, যাঁরা জন্ম না নিলে এদেশের গান, সংস্কৃতিতে সাফল্যের মাত্রা যোগ হতো না তাঁদের একজন নৃত্যশিল্পী বুলবুল চৌধুরী। এ মহান কীর্তিমানের জন্মও কিন্তু প্রিয় লোহাগাড়ায়। দেশের নামকরা পীর আউলিয়াদের জন্মভূমিও এই লোহাগাড়াতে। বাংলাদেশের ইসলামী ব্যংকিং খাতে যাঁর অবদানের কথা সবাই স্বীকার করেন বায়তুশ শরফের পীর শাহসূফী হযরত মাওলানা আবদুল জব্বার রাহ. এর জন্মও লোহাগাড়ায় হয়েছিলো। ১৯ দিন ব্যাপী ঐতিহ্যবাহী আন্তর্জাতিক মাহফিলে সিরাতুন্নবী (সঃ) অনুষ্ঠিত হয় লোহাগাড়ার চুনতী ইউনিয়নে। বাইতুশ শরফ এর ৩দিন ব্যাপী ঐতিহ্যবাহী মাহফিলও এ লোহাগাড়ায়। যেখানে দেশ-বিদেশ থেকে বহু ওলমায়ে-কেরামগণ ওয়ায়েজ করার মাধ্যমে ইসলামের ভিত্তি স্থাপন করে গেছেন। দেশের সনামধন্য কয়েকজন শিল্পপতির জন্মভূমিও এই লোহাগাড়ায়।

কিন্তু কারণে অকারণে, অযত্ন, অবহেলায় এ গ্রামের ইতিহাস, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য আমরা হারাতে বসেছি। আমরা তরুণরা আমাদের লোহাগাড়া সম্পর্কেই জানি না। এলাকার গুনিদের সম্পর্কে কিছু জানি না। এসব অজানা থেকে গেলে এই এলাকায় যে যুগে যুগে কালের সেরা মানুষেরা জন্মেছিলেন তা আমরা ভুলে যাব। আমরা সেই ভাবধারায় থেকে দূরে সরে যাবো। নিজেদের অস্তিত্বকে আর খুঁজে পাওয়া যাবে না একসময় এমন অবস্থা হবে। আমাদের এ অজানা বিষয়গুলোকে সকলের কাছে জানানোর জন্য, আলোকিত সমাজ বিনির্মানের লক্ষ্যে, উন্নত বিশ্বের সাথে লোহাগাড়াকে তাল মিলিয়ে সামনের দিকে নিয়ে যেতে আমরা কিছু সচেতন তরুণরা মিলে ২০১৬ সালে “মিহির” নামে একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠিত করি। আমাদের লোহাগাড়াকে বিশ্বদরবারে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে Lohagarabd.com নামে ওয়েবসাইটের শুভযাত্রা। সম্পূর্ণ রাজনীতির স্পর্শ থেকে বাইরের এ সংগঠনটি সমাজের বিভিন্ন ইভেন্টে অংশগ্রহন করছে। এবং লোহাগাড়ার ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি প্রকাশে নিয়োজিত আছে। আমাদের এই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করার জন্য আপনাদের সকলের সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রত্যাশা করছি। এবং আমাদের এ পথচলা যেন অব্যাহত থাকে সকলের কাছে দোয়া কামনা করছি।

About Tamzid20

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *