Home / প্রিয় লোহাগাড়া / লোহাগাড়ার অন্যান্য সম্পদসমূহ

লোহাগাড়ার অন্যান্য সম্পদসমূহ

images

মৎস সম্পদঃ

উপজেলায় মোট পুকুরের সংখ্যা ১৯৭০ টি। উপজেলায় মৎজীবির সংখ্যা ২৭০ জন এবং জেলে পরিবারের সংখ্যা প্রায় ৫০০। ২.৮% লোক মৎস ও গবাদি পশু পালন কাজের সাথে জড়িত। এলাকায় ১৮৭৮ টি পুকুর আবাদী এবং ৭৭ টি আবাদযোগ্য পুকুর রয়েছে। ২০১৪ সালের হিসাব অনুযায়ী উপজেলায় মোট জলাশয়ের পরিমান ১৬৮৮.৯৩ হেক্টর। মোট ৭৭৪.৯২ হক্টরে মৎস চাষ হয়। উপজেলায় প্রায় শতকরা ১০ ভাগ লোক মৎস চাষে জড়িত।

images-1

যুব কার্যক্রমঃ

১৯৯৭ সালের জুলাই মাসে লোহাগাড়া উপজেলায় যুব কার্যক্রম শুরু করা হয়। ২০১৫ এর হিসাব মতে, উপজেলায় তালিকাভুক্ত যুব সংগঠনের সংখ্যা ৮টি।

বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত মানুষের হারঃ

লোহাগাড়া উপজেলায় মোট জনসংখ্যা ৩২.৩৯% লোক কৃষি কাজ করেন, ১৪.৯৯% লোক কৃষি শ্রমিক, ২.৮% লোক মৎস ও গবাদি পশু পালন, ৪.৪৭% লোক বেতনভুক্ত শ্রমিক, ৩.৫৩% লোক পরিবহন ব্যবসায়ী, ১.৯৩% লোক শিল্প, ১৫.৬৪% লোক বাণিজ্যে, ১০.৭৭% লোক চাকরীতে এবং ১৩.৩৬% লোক অন্যান্য কাজ করেন। উপজেলার ৩% লোক সমবায়ের সাথে কাজ করে।

images-2

হাট-বাজারসমূহঃ

২০১৫ সালের হিসাব অনুযায়ী লোহাগাড়ায় ১৯টি হাট-বাজার রয়েছে। এগুলোর মধ্যে পদুয়া তেওয়ারী হাট, লোহাগাড়া ইউনিয়নের দরবেশহাট, কলাউজানের কানুরাম বাজার, আধুনগর খান হাট এবং পুটিবিলার এম.চর হাট এই পাঁচটি সরকারীভাবে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত গ্রোথ সেন্টার।

বিদ্যুৎঃ

বর্তমানে লোহাগাড়া উপজেলায় বিদ্যুৎ গ্রাহকের সংখ্যা ৩৫,৬৫৪ জন। দৈনিক বিদ্যুৎ চাহিদা ১৩ মেঘাওয়াট। শতকরা প্রায় ৮৫.০৯ ভাগ বাড়িতে বর্তমানে বিদ্যুৎ সংযোগ আছে।

images-3

প্রাণি সম্পদঃ

উপজেলায় শতকরা ২৫% লোক গরু-মহিষ এবং ৫০ ভাগ লোক হাঁস-মুরগী পালন করে। প্রতি বছর এ সম্পদ থেকে শতকরা ৫০% আয় হয়। উপজেলার বিভিন্ন স্থানে প্রায় ১২টি দুগ্ধ খামার, ১৪টি ছাগলের খামার, ৩টি ভেড়ার খামার, ১টি হাঁসের খামার ও ৫৪৮টি মুরগীর খামার রয়েছে। ২০১৪ সালের হিসাব অনুযায়ী, উপজেলায় ৪৭,৪৪৮টি গরু, ৩৭৯টি মহিষ, ২৫,৮৮০টি ছাগল, ১১০টি ভেড়া, ৭৭,৩৩৮টি হাঁস, ৯,৩০,৮১৫টি মুরগী, ১২,৩০০টি কবুতর ও ৬১২০ টি কোয়েল পাখি রয়েছে। উক্ত সম্পদ হতে বছরে প্রায় ৭,৯২০ টন মাংস উৎপাদিত হয়। আয় হয় প্রায় ১৫৯ কোটি ৬০ লক্ষ টাকা।

images-4

প্রাকৃতিক সম্পদঃ

গ্যাসফিল্ডঃ ১৯৬১ সালে লোহাগাড়া ও বাঁশখালির গহীন পাহাড়ের দো-ছাইল্লাহ নামক স্থানে একটি গ্যাসফিল্ডের সন্ধান পাওয়া যায়। ৭টি কূপের মাধ্যমে সেখান থেকে ৩শ ব্যারেল কটে প্রায় দেড় বছর গ্যাস উত্তোলন করা হয়। গ্যাস আহরণের জন্য তৎকালিন পাকিস্তান ও কোরিয়ান সরকারের মধ্যে একটি চুক্তি ছিল। কোরিয়ান বিশেষজ্ঞরা গ্যাস উত্তোলনে ব্যর্থ হয়। পরবর্তীতে ১৯৬৪ সালে সোভিয়েত সরকারের সাথে আরেকটি চুক্তি হয়। চুক্তি অনুযায়ী ৩০% সোভিয়েত এবং ৭০% পাকিস্তান সরকার ভোগ করার শর্তে রুশ বিশেষজ্ঞরা সফলভাবে গ্যাস উত্তোলন করেন। ১৯৬৫ সালে পাক-ভারত যুদ্ধ বেঁধে গেলে গ্যাস ফিল্ডটির ক্ষতিসাধন হয়। পরে কোন এক অজ্ঞাত কারণে সীসা ঢালায় করে এটিকে বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে বাপেক্সসহ অন্যান্য তেল অনুসন্ধানী গ্যাস ফিল্স পরীক্ষা চালিয়ে সিদ্ধান্ত ছাড়াই তাদের জরিপ কাজ শেষ করে। পরিত্যক্ত অবস্থায় এখনো গ্যাস ফিল্ডটি পড়ে আছে।

images-5

খাল-ছড়ার বালিঃ

উপজেলার ডলু, টংকা ও হাঙ্গরসহ ১১টি খাল থেকে প্রতি বছর হাজার ঘন ফুট বালি উত্তলন করা হয়। ডলু খালের বালি খনিজ বালি। ডলু খালের বালিতে সিলিকা বা কাঁচ মাটি রয়েছে। সহজেই এ বালি দিয়ে এলাকায় একটি কাঁচ শিল্প গড়ে তোলা সম্ভব। ডলুর বালি এতোই ঝকঝকে ও পরিস্কার যে, সূর্যের আলোতে চকচক করে। সংশ্লিষ্টদের মতে, লোহাগাড়ার ডলু, টংকা ও বিভিন্ন খাল থেকে প্রায় ২০-২৫ টি মহাল বছরে প্রায় ৩০ হাজার ঘনফুট বালি উত্তোলন করে। অপরিকল্পিত ভাবে আরো ২০ হাজার ঘনফুট এবং অন্যান্যভাবে ১০ হাজার ঘনফুট বালি উত্তোলন করা হয়। সবমিলিয়ে লোহাগাড়ার খালসমূহ থেকে ৬০-৭০ হাজার ঘনফুট বালি উত্তোলন হয়।

পদুয়া ফরেস্ট রেঞ্জঃ

এ অঞ্চলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য যে কাউকে মুগ্ধ করবে। চারদিক ঘিরে সারি সারি বৃক্ষ রাজিতে ভরপুর পদুয়া ফরেস্ট রেঞ্জ। বনবিভাগের ১১শ হেক্টর জমির মধ্যে এ রেঞ্জ গঠিত।


তথ্যসূত্রঃ ১। লোহাগাড়া ইতিহাস ও ঐতিহ্য বই, লেখকঃ মোহাম্মদ ইলিয়াছ;

২। ইন্টারনেট।

About Tamzid20

Check Also

উপজেলার প্রাচীন জনপদঃ

গৌড়স্থানঃ ১৪৩৯ সালে বাংলার সুলতান সদাকত খাঁ নামক সেনাপতির নেতৃত্বে বিশাল গৌড়বাহিনী আরকান রাজ্য পুনঃদখল …

সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য

বিভিন্ন উৎসবের আয়োজন লোহাগাড়াবাসীর রক্ত-মাংসে মিশে আছে। এমন উৎসবের আয়োজনের ইসলাম ধর্মীয় সংস্কৃতির ঐতিহ্যের মধ্যে …

সংবাদপত্রে লোহাগাড়াঃ

অবিভক্ত লোহাগাড়া-সাতকানিয়া থাকা অবস্থায় ৯০ এর দশক থেকে এ এলাকায় মাসিক পত্রিকা বের হয়। মাসিক …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *