Home / আলোকিত ব্যক্তিত্ব / হযরত শাহপীর (রহ:) এর জীবনী

হযরত শাহপীর (রহ:) এর জীবনী

(১৩৩৮-১৩৪৯ খ্রী:) ১৩৪০ খ্রীষ্টাব্দে সোনারগাঁও এর স্বাধীন সুলতান ফখরুদ্দীন মোবারক শাহ সর্বপ্রথম চট্টগ্রাম জয় করেন। ঐতিহাসিকদের মতে, চট্টগ্রামে মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পূর্বে কোন একসময়ে ১২ জন সুফী, পীর আউলিয়াগণ আরব, বাগদাদ ও পারস্য হতে চট্টগ্রামে আসেন এবং ইসলাম প্রচার শুরু করেণ। ওই সময়ে হযরত শাহপীর (রহ:) চট্টগ্রামে আসেন বলে ধারণা করা হয়। সুফী ও পীর আউলিয়াদের ঐতিহাসিক আগমনে চট্টগ্রাম বার আউলিয়ার দেশ হিসেবে পরিচিত।

ঐতিহাসিকদের মতে, অষ্টম-নবম শতাব্দীতে চট্টগ্রামের সাথে আরব, পারস্য ও বাগদাদের বণিকদের যোগাযোগ ছিল এবং নবম শতাব্দী থেকে চট্টগ্রাম তথা দক্ষিণ চট্টগ্রামে মুসলমানদের আগমন শুরু হয়। শাহপীর (রহ:) ও শাহ ওমর (রহ:) এ দুজন দক্ষিণ চট্টগ্রামে প্রথম ইসলাম ধর্ম প্রচারক পীর-আউলিয়া বলে ধারণা করা হয়। হযরত শাহপীর (রহ:) লোহাগাড়ার দরবেশ হাট এলাকায় অবস্থান নিয়ে ইসলাম ধর্মের প্রচার শুরু করেন। অন্য তথ্য মতে, তিনি ইরাক হতে চট্টগ্রাম হয়ে লোহাগাড়ায় আসেন এবং দরবেশ হাটে অবস্থান নেন। ওই সময়ে দরবেশ হাট এলাকা বন-জঙ্গলে ভরপুর ছিল। সেখানে হিংস্র পশু ছিল। এই হিংস্র পশুরা হযরত শাহপীর (রহ:) কে শ্রদ্ধা করত। জনশ্রুতি আছে তিনি হযরত শাহপীর (রহ:) হযরত শাহ ওমর (রহ:) এর ভাগ্নে। এলাকার প্রবীণদের মতে তাঁর পূর্ণ নাম শাহ মোহাম্মদ আবু ইউসুফ। তিনি হযরত আবদুল কাদের জিলানী (রহ:) এর বংশধর ছিলেন। তিনি বার আউলিয়ার অন্যতম অলি। তিনি বার আউলিয়ার অন্যতম সর্দার ও ইরাকের একটি প্রদেশের বাদশা ছিলেন। তিনি ইয়েমেনের বাদশার পুত্র ছিলেন।  আরেক মতে, তিনি বাদশাহি ও রাজকীয় পরিবেশ ত্যাগ করে ইসলাম প্রচারের উদ্দ্যেশ্যে ইয়েমেন থেকে চট্টগ্রামে আসেন। বন-জঙ্গলে আল্লাহর ধ্যানে মগ্ন থাকতেন। কারামতের ধারক ছিলেন তিনি।

 তাঁর বহু কারামতের কথা এখনো শুনা যায়। তিনি অন্যতম অলি ও অলিদের সর্দার ছিলেন। জনশ্রুতি রয়েছে, হযরত শাহপীর (রহ:) শেষ বয়সে চিল্লায় পড়ে আল্লাহর ঝিকির ও ইবাদাত বন্দেগীতে মগ্ন থাকতেন। তিনি এ চিল্লা থেকে আর ইহজগতে ফিরে আসেননি। পরবর্তীতে বহুবছর পর তাঁর চিল্লা স্থানে কেন্দ্র করে ভক্তরা একটি মাজার নির্মাণ করেন। প্রতিদিন অসক্ংখ্য ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা তাঁর মাজার জেয়ারতে আসেন। তাঁর মাজারের উত্তর পাশে রয়েছে একটি পুকুর। সেখানে রয়েছে অসংখ্য গজাল মাছ।

হযরত শাহপীর (রহ:) আল্লাহর প্রেমিক একজন সাধক সুফী ছিলেন। তাঁর তিনজন ব্যক্তিগত খাদেম ছিলেন। তাঁরা হযরত শাহপীর (রহ:) এর মাজার দেখাশুনা করছেন।


তথ্যসূত্রঃ ১। লোহাগাড়া ইতিহাস ও ঐতিহ্য বই, লেখকঃ মোহাম্মদ ইলিয়াছ।

About Tamzid20

Check Also

নোমান গ্রুপের সফলতার পেছনের গল্প!

নোমান গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম। দেশের টেক্সটাইল খাতে তার অভিজ্ঞতা ও অবদান সর্বজনবিধিত। …

লোহাগাড়ার লিজেন্ড মিঃ মাসুদ খানের জীবনী ও খান পরিবার

চট্টগ্রাম জেলার লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি ইউনিয়নে ঐতিহ্যবাহী খান পরিবারে ১৯৫৪ সালের ৩০শে জুলাই মিঃ মাসুদ …

লোহাগাড়ার কৃতি সন্তান সহকারী অধ্যাপক মহিউদ্দিন মাহি

সহকারী অধ্যাপক মহিউদ্দিন মাহি চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি ইউনিয়নের নারিশ্চা গ্রামে ১৯৮৯ সালের ১লা মার্চ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *