Home / মিহির সমাজকর্ম / বিশ্ব স্বেচ্ছাসেবী দিবসে “মিহির” ও লোহাগাড়াবিডি.কম এর শীতবস্ত্র বিতরণঃ

বিশ্ব স্বেচ্ছাসেবী দিবসে “মিহির” ও লোহাগাড়াবিডি.কম এর শীতবস্ত্র বিতরণঃ

নিউজ ডেস্কঃ

আজ ৫ ডিসেম্বর। বিজয়ের মাসের ৫ম দিন বিশ্ব স্বেচ্ছাসেবী দিবস। এই বিজয়ের মাসে প্রথমবারের মত লোহাগাড়ার অন্যতম স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন “মিহির” এবং লোহাগাড়ার পূর্ণ ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পন্ন ওয়েবসাইট “লোহাগাড়াবিডি.কম” পরিবারের যৌথ উদ্যোগে প্রায় ১০০ জন হত দরিদ্র শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ কর্মসূচী(প্রজেক্ট-১) সফলভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে। “হারবে শীত, জিতবে মানবতা” এ স্লোগানকে সামনে রেখে মানবপ্রেমে উজ্জীবিত হয়ে যে দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে “মিহির পরিবার অঙ্গীকারবদ্ধ হয়েছিল, তা এই বিজয়ের মাসে সফলভাবে করতে পেরে “মিহির” পরিবার অত্যন্ত আনন্দিত। বিভিন্ন মানবতামূলক কাজে “মিহির” পরিবারের সদস্যবৃন্দ সবসময়ই সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহন করে আসেছে। প্রথমবারের মত এরকম কর্মসূচীতে সকলের প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে সহযোগিতায় আমরা সত্যি অনেক আনন্দিত। মূলত যে পরিবারে নুন আনতে পান্তা পুরায় অবস্থা এমন পরিবারে আমরা শীতবস্ত্র দিতে পেরেছি।

যাদেরকে নিয়ে শীতবস্ত্র বিতরণঃ

আলহামদুলিল্লাহ আমরা এমন কতগুলো মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করতে সক্ষম হয়েছি যারা সত্যি এ ধরণের সহায়তা পাওয়ার দাবিদার। যাদের দিকে তাকালেই মনটা কেমন যেন কেঁদে উঠে। একখানা কম্বল পেয়ে তাদের মুখে হাসি দেখে মনটা অনেক ভাল হয়ে যায়। যদিও “মিহির” এবং “লোহাগাড়াবিডি.কম” পরিবার তাদের জন্য তেমন কিছু করতে পারেনি। তবে আমরা সমাজের প্রত্যেকটা মানুষ যদি নিজের অবস্থান থেকে আমাদের চারপাশের হত-দরিদ্র মানুষগুলোর পাশে দাঁড়ায় হয়ত সবাই আমরা অনেক সুখে থাকতে পারব। ছোট বেলায় দেখতাম আমাদের পাশাপাশি বাড়িতে কোন স্পেশাল কিছু রান্না করলে তা আমাদের বাড়িতেও পাঠিয়ে দিত। তখন স্পেশাল বলতে শাক, সব্জি ছিল। চাটনি জাতীয় কিছু রান্না। বিশেষ করে কচু শাক! এরকম ছোট বড় প্রত্যেকটা পরিবারেই ছিল। কিন্তু এখন এসব শোনা যায় না। বরং আমরা চেষ্টা করি কেমনে আমরা বাজারের সবচেয়ে বড় মাছটা কিনে নিজেই খাব। আগে দেখতাম একটা বড় পরিবারের প্রত্যেকটা সন্তান সমানভাবে বেড়ে উঠত। কিন্তু এখন দেখা যায় পরিবারের এক সন্তান খুব বেশী টাকা আয় করলে আরেক ভাই কম টাকা আয় করলে দুই ভাইয়ের সন্তান দুই ভাবে বেড়ে উঠে। সমাজে ভাতৃত্ববোধ বলতে কিছু নেই। যেন সবাই হিংসায় নিমজ্জিত। পাশের কেউ ৫ তলা বিল্ডিং তুললে আমরা ১০ তলা করে আরো অত্যাধুনিক প্রাসাদ গড়ে তোলার চিন্তা ভাবনা করি। অথচ পাশের অন্য ভাইটির প্রতি আমাদের নজর নেই। আমরা শুধু একখানা কম্বল তুলে দিতে শীতার্তদের বাড়ি বাড়ি যায়নি। আমরা তাদের সম্পর্কে অনেক কিছু জানতে সেখানে গিয়েছিলাম। এমন কয়েকজনের সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত বিবরণ- দেলোয়ার হোসেন। বয়স ৫০ বছর। পেশায় একজন পত্রিকা বিক্রেতা। সারাদিন কষ্ট করে ক’টা টাকা রোজগার করে সংসার চালায়। আরেকজন মর্তুজা বেগম। বয়স ৫৮ বছর। অক্ষম কিছু করতে পারে না। মোঃ ফয়েজ। বয়স ৪৫ বছর। মানসিক প্রতিবন্ধী। তার হাতে কম্বল তুলে দেওয়ার পর সে খুব খুশি হয়েছে। ছাবেরা খাতুন। বয়স ৩৫ বছর। পেশায় বুয়ার কাজ করে। স্বামীহারা এ মহিলাটি সন্তানদের মুখে আহার তুলে দিতে বুয়ার কাজ করে। মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন। রাতকানা রোগী। এছাড়াও লামা সরই এলাকায় নারগিস,বেদানা খাতুন,ওমর আলী,ছালেহা বেগম,দিলোয়ারা বেগম,আনোয়ারা,আমির উল্লাহ,রোজিনা আকতার,পারভিন আক্তার, পার্শ্ববর্তী উপজেলার হারবাং পাহাড়ী এলাকার বাসিন্দা লোহাগাড়ার রিক্সা চালক মোহাম্মদ আলী,মোহাম্মদ ইদ্রিস,রুবেল,লালু(মানসিক প্রতিবন্ধী), লোহাগাড়া রশিদার পাড়া শাহ ছমিউদ্দীন (রঃ) হেফজখানা ও এতিমখানায় আমরা শীতবস্ত্র পৌছে দিতে সক্ষম হয়েছি। তাছাড়াও পশ্চিম পদুয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিসেস তাহমিনা আক্তারও আমাদের প্রতিনিধি হয়ে ঐ স্কুলের হত-দরিদ্র কিছু শিক্ষার্থীদের পরিবারেও শীতবস্ত্র তুলে দিয়েছেন। বড়হাতিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক আবদুল শুক্কুর এবং তার স্ত্রী শাহ জব্বারীয়া ইবতেদায়ী মাদ্রাসার সিনিয়র শিক্ষাক রওশন আক্তার এবং চুনতি ইউনিয়নের শহীদুল ইসলাম তাদের নিজ এলাকায় শীতার্তদের মাঝে আমাদের শীত বস্ত্র পৌছে দিয়েছেন।

“মিহির” এবং “লোহাগাড়াবিডি.কম” পরিবারের এই মহতী উদ্যোগ সফল হওয়ার পেছনে বিশেষ যাদের কথা না বললেই নয় তারা হলেন লোহাগাড়ার গর্ব অহংকার শ্রদ্ধেয় মি. মাসুদ খান, চীফ ফিন্যান্সিয়াল অফিসার(সিএফএ), লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট লিমিটেড এবং তার সহধর্মীণী বাংলাদেশের প্রথম মহিলা চার্টার্ড একাউন্ট(CA) এবং ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের Sr. Financial Management Specialist মিসেস সুরাইয়া জান্নাত, সৌদি আরব প্রবাসী ভাই জনাব মনসুর আলম, জনাব আবু হানিফ ভাই এবং নাম উল্লেখ না করতে আগ্রহী লোহাগাড়ার অন্য এক গর্ব, অহংকার তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। এই উদ্যোগ সফলভাবে সম্পন্ন করার জন্য যারা নিরলস পরিশ্রম করে শীতার্তদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে শীতবস্ত্রের সঠিক বন্টন করেছেন তারা হলেন দৈনিক যুগান্তরের সংবাদ দাতা মোহাম্মদ সেলিম, পশ্চিম পদুয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সম্মানিত প্রধান শিক্ষক মিসেস তাহমিনা আক্তার, মিহির এর পরিচালনা পরিষদের সদস্য জনাব ইমতিয়াজ মোহাম্মদ শাকিল ভাইয়ের মা-বাবা বড়হাতিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক আবদুল শুক্কুর এবং তার স্ত্রী শাহ জব্বারীয়া ইবতেদায়ী মাদ্রাসার সিনিয়র শিক্ষাক রওশন আক্তার এবং চুনতি ইউনিয়নের শহীদুল ইসলাম , লোহাগাড়াবিডি.কম এর বিজ্ঞাপন ও বার্তা বিষয়ক সম্পাদক তরুন সাংবাদিক সাজ্জাদ হোসাইন এছাড়াও যারা প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করেছেন এবং www.lohagarabd.com ও মিহির এর একঝাক উদ্যমী কর্মীদের প্রতি অসংখ্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি।

প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক,

মিহির এবং লোহাগাড়াবিডি.কম পরিবার।

About Tamzid20

Check Also

পাঠক, লেখকরা মনের মত লিখে পাঠাতে পারেন

অনেক জল্পনাকল্পনা থেকে বেরিয়ে এসে লোহাগাড়ার স্বেচ্ছাসেবী, সামাজিক সংগঠন “মিহির” ও লোহাগাড়ার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও …

লোহাগাড়া রশিদের পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রচনা, কুইজ প্রতিযোগিতা ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ

আজ ২৭ মার্চ রোজ সোমবার। মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে দক্ষিণ চট্টগ্রামের অন্যতম মফস্বল শহর লোহাগাড়ার …

ডিসেম্বর মাসে “মিহির” এর উদ্যোগে লোহাগাড়ায় শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হবে

“হারবে শীত জিতবে মানবতা” কুয়াশাচ্ছন্ন অনন্য রূপ নিয়ে শীতের আবির্ভাব হচ্ছে। শীতের তীব্রতা সামনে কেমন …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *