Home / আলোকিত ব্যক্তিত্ব / লোহাগাড়ার সন্তান “ইজাজুর রহমান খান (স্বপন)”র স্ত্রী জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পি “সামিনা চৌধুরী”

লোহাগাড়ার সন্তান “ইজাজুর রহমান খান (স্বপন)”র স্ত্রী জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পি “সামিনা চৌধুরী”

লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি ইউনিয়নের সন্তান সংগীত প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ওয়ার্ল্ড মিউজিকের কর্ণধার এবং জনপ্রিয় সংগীত পরিচালক ইজাজুর রহমান খান (স্বপন)। তাঁর সহধর্মিনী দেশের অন্যতম জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী সামিনা চৌধুরী। তাঁদের ২ সন্তান- তেজী(মেয়ে) ও বীরবল(ছেলে)।

চুনতির বউ দেশের বিখ্যাত কণ্ঠশিল্পী সামিনা চৌধুরীর এ গ্রামকে নিয়ে ২০১০ সালে দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত অভিমত-

চট্টগ্রামের বউ সামিনা চৌধুরী। দীর্ঘ সময় ছিলেন চট্টগ্রামে। এখনো সময় পেলে ছুটে আসেন প্রিয় শহরটিতে। চট্টগ্রামকে ঘিরে তাঁর স্মৃতির কথা বলেছেন শান্তনু চৌধুরীকে

লোহাগাড়ার চুনতি ছবির মতো সুন্দর একটি গ্রাম। ওখানেই আমার শ্বশুরবাড়ি। আমার স্বামী স্বপনের সঙ্গে (ইজাজ খান ওরফে স্বপন) কয়েকবার গেছি চুনতিতে। ওই গ্রামের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো প্রায় সবাই শিক্ষিত, সংস্কৃতিমনা। গোছানো একটা গ্রাম। চুনতিতে গেলে গ্রামের অনেকে আমার পেছনে পেছনে হাঁটতেন লাইন ধরে। তাঁরা আমাকে খুব পছন্দ করতেন।

এটাও বলতেন, ‘আপনি এবার নির্বাচনে দাঁড়ান, এখান থেকে। আমরা সবাই আপনাকে চাই।’ আমারও মাঝেমধ্যে মনে হতো নির্বাচনে দাঁড়াব! কারণ চুনতিতে যাওয়ার পথে একটা সেতু ছিল। সেটার যা-তা অবস্থা। তখন মনে হতো গ্রামটির জন্য আমার কিছু একটা করা দরকার। জনপ্রতিনিধি হলে হয়তো এলাকার জন্য কিছু করতে পারতাম।’

চুনতি গেলে পাখিশিকার করতাম। একবার পাঁচটা পাখি মেরেছি। এলাকার কেউ কেউ বললেন, ‘ভাইগ্যইত্যা বউ।’ অনেকের কথা মনে পড়ে, তবে নাম মনে করতে পারছি না এখন ।

চট্টগ্রাম শহরে শ্বশুরবাড়ি, আলকরণে। ওই পাড়াটার প্রতি আমার একটা মায়া আছে। সেখানেই শ্বশুর, ননদ সবাইকে নিয়ে একটা একান্নবর্তী পরিবারে থাকার আনন্দ আমি পেয়েছি। আলকরণ থেকে নিউমার্কেট খুব কাছে, সেখানে বেশি যেতাম। প্রথম মেয়ে হওয়ার পর আমি কিছুদিন আসকার দিঘির পাড়ের একটা বাসায় ছিলাম। দিঘির উত্তর পাড়টা ছিল নয়নাভিরাম যাকে বলে তেমন আর কি!

একটা কথা বলি, সংসার জীবনটা কিন্তু চট্টগ্রামেই উপভোগ করেছি বেশি। শ্বশুর মুজিবুর রহমান খানের সঙ্গে আমার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল। খুব শিক্ষিত ও স্মার্ট। যেকোনো বিষয় আমি তাঁর সঙ্গে আলাপ করি। সব চেয়ে বড় কথা ওই পরিবারে আমার অবস্থানটা অন্য রকম। সবাই খুব আদর করেন। আমিও তাঁদের সঙ্গে সহজে মিশতে পারি। ননদদের কথা আলাদা, আমাকে এত আদর করে আমি বলে বোঝাতে পারব না। আমাকে উল্টো বকা দেয় স্বপনের কাছ থেকে কিছু চাই না বলে। তাঁদের স্বামীদের সঙ্গেও আমার ভালো সম্পর্ক।

ঢাকাকে আমি যতটা অপছন্দ করি ঠিক ততটা ভালোবাসি চট্টগ্রামকে। চট্টগ্রামের ভাষা বলতে পারি না। কিন্তু বুঝি। যেমন আমি বলতে পারি, আইও (এস), বইও (বস), যঅ (যাও), খঅ (খাও) ইত্যাদি।

চট্টগ্রামে আমরা খুব আড্ডা দিতাম। খালেদা আপার (স্বপনের বড় বোন) বাসায় বেশি আড্ডা হতো। চট্টগ্রামের মানুষ খুব অতিথিপরায়ণ। অতিথি আপ্যায়নে কোনো কার্পণ্য নেই। চট্টগ্রামের মানুষ প্রচুর কথা বলে। কথার একটা যে চেইন আছে তা-ই বোঝেন না। কিন্তু আমার শ্বশুর ছিলেন ভিন্ন। তাঁর কথা পরিশীলিত, গুছিয়ে বলেন। আরেকটি কথা চট্টগ্রামের মেজবান কিন্তু আমার খুবই প্রিয়।

এখন তেমন যাওয়া হয় না। একটা ঈদে যাই। সবাই এক হই। ভীষণ মজা হয় তখন। কাজীর দেউড়িতে বড় আপার বাসায় (খালেদা আপা) থাকি।

কোরবানির ঈদে ওখান থেকে গরু জবাই করে বাবার বাসায় (আলকরণ) যাই। আমার বাচ্চারা ব্যাপারটা খুব উপভোগ করে। যখনই চট্টগ্রামে যাই বাসে যাই। বাসে যাওয়াটা খুব উপভোগ করি। বিশেষ করে চৌদ্দগ্রামের হোটেলে খাওয়াটা আকর্ষণীয়। যদিও সেখানে খাবারের প্রচুর দাম।

চট্টগ্রামে গেলে আমি আলাদা যত্ন পাই, আর শহর এলাকায় ঢুকলেই মনে হয় নিজের শহরে এলাম। এটা কেন হয় জানি না। মন চাইলে ভবিষ্যতে চট্টগ্রামে গিয়ে থাকতে পারি স্থায়ীভাবে।

বিয়ের আগেও কিন্তু আমি চট্টগ্রামে গেছি অনুষ্ঠান করতে। বিশেষ করে মেডিকেল কলেজে। চট্টগ্রামেই আমার বেশি অনুষ্ঠান হতো। বিয়ের পর বড় মেয়ে তেজী (ফাবাহশীর জাহান খান) জন্মের সময় আমি ওখানে ছিলাম দীর্ঘ দিন। গান-টান সব বন্ধ ছিল তখন।

চিকিৎসক জেসমিনের অধীনে ছিলাম মেট্রোপলিট হাসপাতালে। তিনি আমাকে খুব আদর করতেন। তাঁর কথা খুব মনে পড়ে। আমার তৃতীয় বাচ্চাটা জন্মের সময় মারা যায়। মনে হয় সে সময় যদি আমি জেসমিনের অধীনে থাকতাম তাহলে হয়তো আমার জাদুটা বেঁচে যেত।

চট্টগ্রামে ছিলাম অনেক দিন, কিন্তু ঘোরাঘুরি তেমন হয়নি। রাঙামাটি ও বান্দরবানেও যাওয়া হয়নি। শহরের মধ্যে পতেঙ্গা যেতাম বেশি। ভাটিয়ারি খুব ভালো লাগে। এত সুন্দর জায়গা আমি দেখিনি। অদ্ভুত সুন্দর। ফয়’স লেক, জিলাপি পাহাড় ভালো লাগে। অনেক নিরিবিলি শহর ছিল। তবে এখন ঘিঞ্জি হয়ে উঠছে মনে হয় অনেক বেশি যত্ন করে রাখা উচিত শহরটাকে।

About Tamzid20

Check Also

নোমান গ্রুপের সফলতার পেছনের গল্প!

নোমান গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম। দেশের টেক্সটাইল খাতে তার অভিজ্ঞতা ও অবদান সর্বজনবিধিত। …

আজ পবিত্র শবে মেরাজ

আজ পবিত্র লাইলাতুল মেরাজ বা শবে মেরাজ। দিন পেরিয়ে রাতের আঁধার নামলেই আবির্ভাব ঘটবে মহাপুণ্যে …

একাত্তরে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মরণে

আজ ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস। ১৯৭১ সালের ২৫মার্চ কালো রাত থেকেই পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *