Home / ইউনিয়নসমূহের নামকরণ / লোহাগাড়া উপজেলা ও থানার ইতিকথাঃ

লোহাগাড়া উপজেলা ও থানার ইতিকথাঃ

এক নজরে লোহাগাড়া উপজেলা পরিষদঃ

১৯৮৫ সালে লোহাগাড়া থানাকে একটি উপজেলা করার জন্য মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশ আসে। আবারো জায়গা ও ভবন সংকটের প্রশ্ন। তখন এলাকার মুরব্বী এমপি মোস্তাক আহমদ চৌধুরীও পরলোকগমন করেন। তখন এলাকার অন্যান্য মুরব্বী তৎকালিন চেয়ারম্যান ফয়েজ আহমদ, মমতাজুল হক চৌধুরী, এনামুল হক চৌধুরী, আবু জাফর চৌধুরী, নজির আহমদ, সৈয়দ আহমদ, অধ্যাপক নাজিম উদ্দীন প্রমুখ ব্যক্তিত্বরা আলাপ-আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেন যে, মমতাজ মিয়া ও মোস্তফিজুর রহমানের প্রতিষ্ঠান তৈয়ব আশরাফ টেক্সটাইল মিলের খালি জায়গায় হবে লোহাগাড়া উপজেলার অস্থায়ী অফিস। জেলা প্রশাসকও এ ব্যাপারে সম্মতি জ্ঞাপন করেন এবং ১৯৮৩ সালের ৭ নভেম্বর ঐখানে তৎকালিন খাদ্য মন্ত্রী এজি মাহমুদ কার্যক্রম চালু করেন। পদুয়া, আমিরাবাদ, লোহাগাড়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যানেরা স্ব স্ব এলাকায় লোহাগাড়া উপজেলা স্থাপন করার প্রস্তাব জানালে স্থান সিলেকশন কমিটি যারা ৫০ শতক জমি দান করবেন সেখানেই উপজেলা স্থাপনের প্রস্তাব করেন। পরিশেষে মোস্তাফিজুর রহমান, ফয়েজ আহমদ, মমতাজুল হক চৌধুরী প্রমুখরা ৫০ শতক জমি দান করেন। এবং সেখানেই নির্মিত হল উপজেলা পরিষদ ভবন।

উপজেলার চেয়ারম্যান পদে দায়িত্বপালন করেছেন যারাঃ

প্রথম উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী। দ্বিতীয় জিয়াউল হক চৌধুরী বাবুল(২০০৯ থেকে ২০১৪ সাল) এবং তৃতীয় অর্থাৎ বর্তমানে দায়িত্বরত অবস্থায় আছেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের অ্যাটর্নি জেনারেল এডভোকেট ফরিদ উদ্দীন খান(২০১৪ সাল থেকে)।

সংসদ সদস্যের দায়িত্বপালন করেছেন যারাঃ

সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া উপজেলা ২০১৩ সালের আগে চট্টগ্রাম-১৪ আসন হিসেবে পরিচিত ছিল। বর্তমানে এটি চট্টগ্রাম-১৫ আসন। এ আসনের সংসদ সদস্যরা হলেন- এম ছিদ্দিক(আওয়ামীলীগ, ১৯৭৩), মোস্তাক আহমদ চৌধুরী(জাতীয়তাবাদী দল, ১৯৭৯), ইব্রাহীম বিল খলিল(জাতীয় পার্টি, ১৯৮৬ ও ১৯৮৮), আলহাজ্ব শাহজাহান চৌধুরী(জামায়াতে ইসলামী, ১৯৯১ এবং ২০০১), কর্নেল (অব:) ড. অলি আহমদ(জাতীয়তাবাদী দল, ১৯৯৬), আ.ন.ম সামশুল ইসলাম(জামায়াতে ইসলামী, ২০০৮), প্রফেসর ড. আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী।

লোহাগাড়া থানার ইতিকথাঃ

অবিভক্ত সাতকানিয়া থানায় ১৯৭৮ সালে বর্তমান লোহাগাড়ার পাহাড় অধ্যুষিত ৫টি ইউনিয়নে কিছু যুবক “সর্বহারা পার্টি” নাম দিয়ে বিত্তশালীদের কাছ থেকে জোরপূর্বক চাঁদা আদায় করে। তৎকালিন পুটিবিলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শামশুল আলম চাঁদা প্রদান না করলে তাকে হত্যা করা হয়। এমন পরিস্থিতি মোকাবেলা করা সাতকানিয়া থানা পুলিশের কাছে অসম্ভব ছিল। তখনকার লোহাগাড়া উপজেলার চেয়ারম্যান ছিলেন মোস্তফিজুর রহমান চৌধুরী। তিনি সাতকানিয়া উন্নয়ন কমিটির চেয়ারম্যানও ছিলেন। তিনিসহ এলাকার অন্যান্য চেয়ারম্যানেরা উচ্চ প্রশাসনের নিকট বিষয়টি তুলে ধরেন। ফলে সর্বাহারা পার্টিকে দমন করতে কর্তৃপক্ষের নির্দেশে লোহাগাড়া ইউনিয়ন ভবনে রিজার্ভ পুলিশ অবস্থান করেন। তারপরও এলাকাবাসী অনেক ভয়ের মধ্যে জীবনযাপন করছিন। এমতাবস্থায় এলাকার চেয়ারম্যানেরা লোহাগাড়াকে আলাদা উপজেলা করার প্রস্তাব করেন। থানা কমিটির চেয়ারম্যান ও লোহাগাড়ার ৬টি ইউনিয়নের তৎকালিন চেয়ারম্যান যথাক্রমে- বড়হাতিয়া আবুল খায়ের সওদাগর , চুনতী আব্দুল মান্নান, কলাউজান শামশুল হক, পুটিবিলা আবদুল মোনাফ, চরম্বা সুলতান আহমদ ও আধুনগর নুরুল হক চৌধুরী মিলে উচ্চ প্রশাসনের নিকট স্মারকলিপি জমা দেন। সাতকানিয়া থেকে ২০ কিঃমিঃ দূরে এসে পুলিশ নিরাপত্তা দিতে অক্ষম এ বিষয়টি পুলিশ কর্মকর্তা এবং জেলা প্রশাসককে বুঝাতে তারা সক্ষম হয়েছিল। অবশেষে সব বাধাকে উপেক্ষা করে প্রশাসন ১৯৭৯ সালে সাতকানিয়া থানার ২৬টি ইউনিয়ন থেকে ৯টি ইউনিয়ন বাদ দিয়ে লোহাগাড়া থানা গঠন করার সিদ্ধান্ত নেন। এমতাবস্থায় থানার কার্যক্রম পরিচালনা করার মত জায়গা ও ভবন ছিল না। পরবর্তীতে তৎকালিন এমপি মোস্তাক আহমদ চৌধুরী এবং উপ-প্রধানমন্ত্রী জামাল উদ্দীন সাহেবের সহযোগিতায়  ১৯৮১ সালের ২০ মে লোহাগাড়া ইউনিয়ন পরিষদকে সরিয়ে সেখানে লোহাগাড়া থানা প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে ঐ এলাকাটি পুরান থানা নামে পরিচিত। পরে বর্তমান স্থানে জমি অধিগ্রহন করে ভবন নির্মান করে থানা স্থানান্তর করা হয়।


সূত্রঃ লোহাগাড়া ইতিহাস ও ঐতিহ্য বই; লেখকঃ মোহাম্মদ ইলিয়াছ।

About Tamzid20

Check Also

এক নজরে বড়হাতিয়া ইউনিয়ন

বড়হাতিয়া ইউনিয়ন পরিষদঃ বড়হাতিয়াকে ‘বড়’ এবং ‘হাতিয়া’ এ দুটি শব্দে বিভক্ত করা যায়। এলাকার মানুষের …

এক নজরে আধুনগর ইউনিয়ন

আধুনগর ইউনিয়ন পরিষদঃ বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যর নবাব আলীবর্দি খাঁ (১৭৪০-১৭৫৬ খ্রী:) এর শাসনামলে দোহাজারী …

এক নজরে আমিরাবাদ ইউনিয়ন

আমিরাবাদ ইউনিয়ন পরিষদঃ বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যর নবাব আলীবর্দি খাঁ (১৭৪০-১৭৫৬ খ্রী:) এর শাসনামলে দোহাজারী …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *