Home / গল্প / ভবের সৈকতেঃ মামুন আব্দুল্লাহ্

ভবের সৈকতেঃ মামুন আব্দুল্লাহ্

একটু আগেই বাসা থেকে বের হলো ফাহিম,ঢাকার যানজটের যা অবস্থা!  গাড়ীতে উঠলে নির্দিষ্ট স্থানে না পৌছা পর্যন্ত বলা যাবেনা কত সময় লাগবে।

ফাহিমের গাড়ী রাত ১১ টায়! তাই বাসা থেকে বের হয়েছে ৮ টায়! ফাহিম যাচ্ছে কক্সবাজার, জাতীয় ঘুড়ি উৎসবে অংশ নিতে।গত বার সে সেরা ১০ এ স্থান পেয়েছিল।

ঢাকায় বিভিন্ন ঘুড়ি প্রতিযোগিতায়

ফাহিম অসংখ্য পুরস্কার জিতেছে।

এবার তার স্বপ্ন জাতীয় প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হওয়া। ফাহিমের ছোট বেলা থেকেই নীল নীল আকাশে নানার রঙের ঘুড়ি উড়ানো শখ। ঘুড়ির সাথে নিজের মন কে সে মেঘের রাজ্যে ভাসিয়ে দিতে তার ভালোলাগে।

মাত্র আধাঘণ্টার মধ্যেই টার্মিনালে  পৌছলো সে ।কাউন্টারের পাশেই গরু দুধের ভালো চা পাওয়া যায়,এককাপ খেয়ে কয়েক কদম ঘুরে এসে আরও এককাপ চা সে খেয়ে নিল।সময় গুলো কাটছে না,কাউন্টারেও আজ যাত্রীর প্রচুর ভিড়।

এক রমণীর পাশে একটি চেয়ার খালি আছে,রমণী তার ব্যাগ দিয়ে দখল করে রেখেছে। কেউ পাশে বসুক হয়তো তিনি তা চায় না…..নয়তো তিনি যে সময় কাউন্টারে এসেছেন ওই সময় যাত্রীর তেমন ভিড় ছিলনা,অথবা ব্যাগ টি কি আপনার? একটু সরাবেন? রমণীর রমণীয়তায় মুগ্ধ হয়ে

যাত্রীদের মাঝে কেউ বলার সাহস পায়নি। রমণীও হয়তো খেয়াল করেনি তার ব্যাগ টি যদি সরিয়ে রাখতো তাহলে অনায়াসে একজন লোক আরামে বসতে পারতো।

আসলে খেয়াল কোথায় থেকে করবে?

আসার পর থেকেই ফাহিম দেখতেছে সে মোবাইল নিয়েই ব্যস্ত!

একবার কানে দিচ্ছে, আবার চোখের সামনে ধরছে……সময় যত গড়াচ্ছে মেয়েটির অস্থিরতা তথই বেড়ে যাচ্ছে।

মোবাইলের ওপাশে কারো সাথে কথা বলতে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।ফাহিম দূরে দাঁড়িয়ে অনেকক্ষণ থেকেই অবজার করতেছে। ফাহিম আরো এককাপ চা খেয়ে এসে মেয়েটি কে বল্লো প্লিজ ব্যাগ টা কি একটু সরাবেন?

মেয়েটি ফাহিমেত দিকে একবার চেয়ে অনিচ্ছা সত্বেও বাম হাতে ব্যাগ টি সরিয়ে নিলেন।ফাহিম বসাতেই মেয়েটি নিজের আড়মোড়া ভেঙে নড়ে উঠলো।

নিজেকে একটু সারাইয়ে নিলো। ফাহিম আরামে বসে অনলাইনে ভুবনে চলে গেলো। একের পর এক গাড়ী কাউন্টার ছেড়ে যাচ্ছে, মেয়েটির কোন ভ্রু কেপ নেই,সে ব্যস্ত মোবাইল নিয়ে।

“দুঃখিত আপনার ডাইল কৃত নাম্বার টি এখন বন্ধ আছে” মৃদূ সুর ফাহিমের কানেও আসলো। এরই মাঝে হয়তো মেয়েটির কোন বান্ধবী ফোন করেছিল,

না!  না!  আমি ফিরবো না সুমি!

কথা শেষ না করেই লাইন কেটে দিলো।

মেয়েটির পোষক পরিচ্ছেদ দেখে ফাহিমের মনে হলো বড় লোক বাবার আদরের দুলালী।

হয়তো কারো সাথে রাগ করেই ঘর ছেড়েছে সে।

সময় যতই গড়িয়ে যাচ্ছে মেয়েটির মাঝে দেখি অস্থিরতা বেড়ে যাচ্ছে।

ফাহিম যেহেতু পাশেই বসা, বেশ কয়েক বার জিজ্ঞেস করতে করতেই নিজেকে বারণ করে রেখেছে সে । আপনার কাছে কি একটু পানি হবে?

হঠাৎ মেয়েটি ফাহিমের কাছে পানি চাইলো।ফাহিম খুবই লজ্জিত, এমনিতেই ফাহিম গাড়ী তে উঠার আগে পানি, হালকা নাস্তা সাথে নিয়ে রাখে। আজ মেয়েটির কান্ড দেখতে দেখতে সব ভুলে গেছে।

ফাহিম তার ব্যাগ টি চেয়ারে রেখেই পাশের দোকান থেকে একটি মাম পানি ও হালকা কিছু নাস্তা ও কয়েক টি সেন্টার ফ্রেস সাথে নিয়ে আসলো।পানির বোতল তার দিকে বাড়িয়ে দিতেই সে ফাহিমের দিকে না তাকিয়েই বোতল টি নিয়ে গড়গড় করে অর্ধেক পানি খেয়ে নিয়ে বোতল টি খোলা মুখে ফাহিমের দিকে বাড়িয়ে দিল! ফাহিম একটু আচার্য্য হলো,ধন্যবাদ দিবে তো দুরের কথা ফাহিমের দিকে একবার তাকালোও না? আরও অবাক হলো সে এমন শীতের সময়ে মেয়েটি কে এত পানি পান করতে দেখে।

ফাহিম বোতলের মুখ বন্ধ করে বোতল টি তার ব্যাগে নিয়ে নিয়ে একটি সেন্টার ফ্রেস মুখে দেবে, ঠিক সেই সময় দেখি মেয়েটি তার ডান হাত বাড়িয়ে দিলো!ফাহিম সামান্য অবাক হলো, ফাহিম তার হাতে ধরা সেন্টার ফ্রেস টি নিয়ে চিন্তায় পড়ে গেলো, দেরী হতে দেখে মেয়েটি ফাহিমের দিকে একবার চেয়ে মুচকি হেসে বলে উঠলো শুধু কি একটাই এনেছেন?

আর নেই?

ফাহিমও মুখে সামান্য হাসির রেখা টেনে হাতে ধরা সেন্টার ফ্রেস টি মেয়েটির হাতে দিয়ে, পকেট থেকে আরও একটি সেন্টার ফ্রেস বাহির করে মুখে দিলো।

আর কোন কথা নয়…..সে নাম্বার ডাইল করেই যাচ্ছে একাধারে…….মোবাইল বন্ধ থাকলে সংযোগ পাওয়া সম্ভব?

ফাহিমের গাড়ী এসে গেছে, যাত্রীরা অনেকে উঠে গেছে,ফাহিমও উঠে দাঁড়ালো, ব্যাগ টি হাতে নিয়ে বাসে উঠে বসলো।মেয়েটি তখনো বসেই আছে,মোবাইলে কল করেই যাচ্ছে আর এদিক ওদিক তাকাচ্ছে, হয়তো কেউ আসবে এই আশায়……

এদিকে গাড়ী ছাড়বার সময় প্রায় হয়ে গেল,সুপার ভাইজার যাত্রী মেলাতে পারেনা, একবার কাউন্টারে একবার গাড়ী তে…..

কাউন্টার ম্যানেজার হঠাৎ খেয়াল করলো মেয়েটিকে, এই যে মেম আপনার গাড়ী ১১ টায় না?

প্লিজ গাড়ী তে উঠে পড়ুন।

এরপর মেয়েটি একপ্রকার অনিচ্ছা স্বত্তেও ব্যাগ টি নিয়ে দ্রুত গাড়ী তে উঠে পড়লো। পরু বাস ভর্তি। শুধু ফাহিমের পাশ্বের সিট খালি পড়ে আছে,ফাহিম মনে করছিলো যাত্রা পথের কাউন্টার থেকে হয়তো কেউ উঠবে। যখন দেখলো মেয়েটি তার ব্যাগ টি রেখে ফাহিমের পাশে এসে দাঁড়ালো,ফাহিমের নিজের উপর নিজের একটু রাগ হলো।

দীর্ঘ যাত্রা পথে পাশে অপরিচিত মহিলা বসা মুশকিল। একটু এদিক ওদিক হলেই মহিলারা যা ভাব দেখায়!………..মনে করে!

মহিলার চেয়ে কোন ছেলে বসলে আরামে যাওয়া যায়।

ফাহিম মেয়েটিকে জায়গা করে দিয়ে যতাসম্ভব নিজেকে ঘুটিয়ে বসলো।

মনে মনে সে প্রচণ্ড বিরক্ত।

মেয়েটি গাড়ীর গ্লাসটি সামান্য খুলে দিল।গাড়ী দ্রুত গতিতে ছুটে চলছে।মেয়েটির খোলা লম্বা চুলের আচড় পড়ছে ফাহিমের চোখে মুখে।অথচ মেয়েটির কোন খেয়াল নেই।

নেই দু’জনের মধ্যে কোন কথা।

মেয়েটি চলন্ত গাড়ী তে রাতের অন্ধকারে মিলিয়ে যাওয়া সড়কের লাল নীল বাতি গুলোর দিকে অপলক চেয়ে আছে….

ওহ সরি…

কিছু মনে করবেন না প্লিজ। চুল গুলো কেটে ফেলা তো আর সম্ভব নয়! মেয়েটি তার ফর্সা হাত টি ফাহিমের দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বল্লো আমি স্নিগ্ধা, ব্রাক ইউনিভার্সিটি তে অনার্স ২ য় বর্ষে।

ফাহিমের হাতটিও অজান্তে মেয়েটির দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বললো আমি ফাহিম, চাকুরীজীবী। ফাহিম এবার মেয়েটির দিকে একনজর দেখে নিলো, কিন্তু সে কি?

এত সুন্দর মানুষ কি করে হয়? এতক্ষণ কাউন্টারে পাশে বসা, একটু খেয়াল করে নি। কি অদ্ভুত সুন্দর সেই,কোন পরী না তো? ভুল করে গাড়ীতে পড়েছে মনে হয়….!

চোখ ফেরানোই দায়!

সৃষ্টিকর্তা যেন পৃথিবীর সব সৌন্দর্য্য দিয়ে আপন হাতে তাকে গড়েছেন।ফাহিমের হঠাৎ তার কলেজ জীবনের বন্ধু মিতার কথা মনে পড়ে গেল।এমনই অপরূপ সুন্দরী  ছিল সে। কলেজ থেকে কক্সবাজারে শিক্ষা সফরে যাওয়ার সময় তার সাথে বন্ধুত্ব হয়।

ফাহিম একটু অবাক হলো  স্নিগ্ধার চোখ,নাক,ঠোট এবং হাসিতে কি অদ্ভুত ভাবেই মিতার সাথে মিলে যাচ্ছে। আমার বাসা গুলশানে, কক্সবাজার ভ্রমণে যাচ্ছি

আমার বন্ধু তুষার অপেক্ষা করার কথা,কিন্তু সেই সন্ধ্যা থেকেই তুষারের নাম্নারে সংযোগ পাচ্ছিনা। আপনি কি ঘুরতে যাচ্ছেন?

না আমি ঘুড়ি প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে যাচ্ছি।

আগামীকাল বেলা ৩ টায় লাবনী পয়েন্টে এই প্রতিযোগিতা।

ঘুড়ি প্রতিযোগিতা? স্নিগ্ধা অবাক হয়েই জানতে চাইলো

হ্যা…

কোন দিন শুনলেম না তো! আজই প্রথম দেশে প্রতিদিন কত উৎসব হয় আমরা কি তার সব খবর রাখি?

গাড়ী খুব দ্রুত গতিতেই চলছে… কিন্তু আলাপ ওই অতটুকুনই, ফাহিমের চোখে ঘুম নেই,

মিতার স্মৃতি গুলো ফাহিমের হৃদয়ে নাড়া দিল।এখন দেখি স্নিগ্ধার বাতাসে এলোমেলো করা চুল থেকে মিষ্টি ঘ্রাণ আসছে…স্নিগ্ধার চুলের ছোঁয়া ফাহিমের খুব  ভালো অনুভব হচ্ছে!

কাঁচপুর ব্রিজে হালকা জ্যাম পার হয়ে গাড়ী মেঘনা ব্রিজের কাছাকাছি।

স্নিগ্ধা দেখি গভীর ঘুমের রাজ্যে।

ঘুমের মাঝেই স্নিগ্ধার মাথা টি ফাহিমের বিশ্বস্ত ঘাড়ে স্থান করে নিল নিমিষে….

ফাহিম প্রথমে সরিয়ে দেবে ভেবে ছিল,যখন স্নিগ্ধার নিষ্পাপ মুখের দিকে তাকালো সিদ্ধান্ত টা পালটিয়ে নিলো। স্নিগ্ধা আরামেই ঘুমিয়ে আছে….

ফাহিম স্নিগ্ধার মুখের পানে শুধু চেয়েই আছে…ফাহিম স্নিগ্ধার মাঝে তার হারিয়ে যাওয়া মিতাকেই খুঁজে ফিরছে!

মাঝে মাঝে স্নিগ্ধার মুখের উপর গড়িয়ে পড়া চুল আলতো করে সরিয়ে দিচ্ছিল।

ফাহিমের বেশ ভালোই লাগছে!

আস্তে আস্তে গাড়ী কুমিল্লায় হোটেল নূর জাহান এ যাত্রা বিরতির জন্য প্লেস করলো তখনো স্নিগ্ধা গভীর ঘুমে এবার ফাহিম….সামান্য নড়ে আমরা কিন্তু কুমিল্লায় এসেগেছি!

আপনি কি নামবেন?

স্নিগ্ধা সরি বলে,, আপনাকে অনেক কষ্ট দিয়েছি….প্লিজ ক্ষমা করে দিবেন।।

না না  ঠিক আছে,,,

ফাহিম ফ্রেস হয়ে হোটেলের কোণায় একটি চেয়ারে বসলো।

স্নিগ্ধাও ফ্রেস হয়ে একি ওদিক ফাহিম কে খুঁজতে লাগলো, শেষে ফাহিম কে দেখতে পেয়ে খুশি মনে ফাহিমের কাছে চলে আসলো….আপনি এখানে?

ফাহিম কিছু টা লজ্জা পেলো।

না না

আপনার জন্য অপেক্ষায় ছিলেম।

বসুন প্লিজ….

কি খাবেন বলুন?

ফাহিমের হাতের ইশারায় বয় ছুটে আসলে স্নিগ্ধা পোলাও এর অর্ডার দিলো সাথে ডিংস….

বয় ছেলে বিল নিয়ে আসতেই স্নিগ্ধা ছূ মেরে বিলের স্লিপ টা নিয়ে নিলো, ফাহিম অনেক অনুরোধ করলো, কিন্তু স্নিগ্ধা কিছুতেই রাজী হলো না শেষমেশ স্নিগ্ধা খাওয়ার বিল পরিশোধ করলো।

বিরতি শেষে গাড়ী পুনঃরায় ছুটে চলল…এবার ফাহিম আর স্নিগ্ধার মাঝে আলাপনের ঝড় বইতে লাগলো…!

বেলা ১১ টায় ওরা কক্সবাজার পৌছে গেল,টারমিনালে নেমে ফাহিম এদিক ওদিক তুষার কে খুঁজতে লাগলো,

“আচ্ছা আপনি কি তুষার কে চিনেন” স্নিগ্ধা র প্রশ্ন শুনে ফাহিম লজ্জা পেল,আসলেই তো ফাহিম তুষার কে তো চিনেনা…তাহলে এতক্ষণ সে কাকে খুঁজতেছিল?

স্নিগ্ধা থেকে তুষারের মোবাইল নাম্বারটাও নেয় নি!

দু’জনেই আট্টাহাসিতে পেটে পড়লো। এখন কি করা যায়? আমি আপনার সাথে থাকলে কি আপনার খুব অসুবিধা হবে…স্নিগ্ধার প্রশ্নে ফাহিম না না তা নয়, কিন্তু….

কোন কিন্তু নয়…..

শেষে দু’জন অটোরিকশা করে হোটেল সিলভার প্লেস এ চলে আসলো, ফাহিম তার বন্ধু নায়কের মাধ্যমে যোগাযোগ করে এই হোটেলে রুমের ব্যবস্থা করলো। স্নিগ্ধা ভিসা কার্ড বের করে দিল হোটেল ম্যানেজার কে বিল পরিশোধের জন্য।ফাহিম কিছু বল্লো না।ফাইভ স্টার হোটেল,,রুমে ডুকেই ফাহিম বাথরুমে গিয়ে ভালো ভাবে ফ্রেস হয়ে বাহির হতে দেখলো স্নিগ্ধা গভীর ঘুমে আচন্ন।

ঘড়ি দেখলো প্রায় ১ টা!

ফাহিম তাড়াতাড়ি ঘুড়ির ব্যাগ নিয়ে লাবনী পয়েন্টের উদ্দ্যেশে রওনা দিলো।

স্নিগ্ধা কে ঘুম ভেংগে আর ডিস্টার্ব করলো না।

বেলা ৩ টায় প্রতিযোগিতা শুরু হলো।

ফাহিম তার ঘুড়ি উড়িয়ে দিল। শক্ত হাতে নাঠাই নেড়ে চললো,আস্তে আস্তে ফাহিমের ঘুড়ি সবার উপরে নীল আকাশে স্থান করে নিলো। প্রচুর দর্শক। দর্শকের চিৎকার, জয়োল্লাস

হঠাৎ ফাহিমের চোখ পড়লো অতি জোরে হাত তালি দিয়ে চলা স্নিগ্ধার দিকে,

ফাহিম মনে মনে অবাক হলো স্নিগ্ধা কে দেখে।এমন সময় অন্য একটি বাজ পাখির ন্যায় ঘুড়ি ফাহিমের প্রজাপতির ঘুড়ি কে সজোরে আঘাত করে বসলো।কিন্তু চৌকস  খেলোয়াড় ফাহিম কে পরাস্ত করা সহজ নয়।ফাহিম শক্ত হাতে নাঠাই ধরে সবার উপরে….

প্রতিযোগিতা শেষ হলো ফাহিম প্রথম স্থান অর্জন করলো।

ফাহিম কে পুনঃ রায় অবাক করে দিয়ে স্নিগ্ধা ফাহিমের পাশে চলে আসলো।যেন সেই অনেক দিন আগে থেকেই চেনা-জানা।

এবার পুরস্কার দেবার পালা।

ফাহিম প্রধান অতিথি মাননীয় বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী র কাছ থেকে প্রথম পুরস্কার গ্রহণ করলো।স্নিগ্ধা ফাহিমের পাশেই প্রাপ্ত ফুলের ডালা নিয়ে দাঁড়িয়ে।

বিভিন্ন ইলেক্ট্রিক মিডিয়া, জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকার সাংবাদিদের মুহ মুহ লাইট, ক্যামরায় দু’জনের ছবি দারুণ ভাবে ফুটে উঠলো।

ফাহিমের ডান হাতে পুরস্কার, অন্য হাত স্নিগ্ধার ধরা!

ফাহিমের খুশীর সীমা নেই।

প্রতিযোগিতা পর্ব শেষে ফাহিম আর স্নিগ্ধা সন্ধ্যার সাগর সৈকতে পাশাপাশি বসে দু’জনে…

সাগরের মিষ্টি হিমেল বাতাসে দু’টি হৃদয় ভাসিয়ে দিলো।


মামুন আব্দুল্লাহ্

সোবাহান ম্যানশন, পশ্চিম কলাউজান,

বাংলাবাজার,লোহাগাড়া,চট্টগাম।

About Tamzid20

Check Also

রহস্যগল্প “খবিস” -মিজান উদ্দিন খান বাবু। 

লোকটাকে প্রথম দেখাতেই আমার অপছন্দ হয়েছিলো।মোঙ্গলিয়ান চেহারাটায় কোথায় যেন একটা অশুভ ভাব আছে। অসম্ভব ধূর্ত …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *