Home / উদ্যোক্তাদের নিয়ে / স্বল্প পুঁজির ব্যবসায় আইডিয়াঃ

স্বল্প পুঁজির ব্যবসায় আইডিয়াঃ

চাকরি নামক সোনার হরিণের পেছনে না দৌড়ে নিজেই হতে পারেন উদ্যোক্তা। লোহাগাড়াবিডি.কম এর নিজস্ব চিন্তা চেতনা থেকে দেশে চলমান পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে স্বল্প পুঁজির ব্যবসায়ের বিভিন্ন আইডিয়া তুলে ধরা হল। আশাকরি দেশের বেকার সমস্যা দূরীকরণে আমাদের আইডিয়াগুলো কাজে আসবেঃ


১। অনলাইনে কাপড়ের ব্যবসাঃ বিশ্ব যখন হাতের মুঠোই সবাই ইদানীং অনলাইন কেনাকাটা করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। সবাই চাই ঘরে বসে কেনাকাটা করতে। তাই ব্যবসায়ের অন্যতম মার্কেট প্লেস এখন অনলাইন। আর যুবকরা তো নিত্যনতুন কাপড়ের কালেকশন অনলাইন থেকে করে। তাই ছেলেদের টি-শার্ট, শার্ট, জিন্স প্যান্ট, ফতুয়া, পাঞ্জাবী ইত্যাদি অনলাইনে বিক্রি করার একটি সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে শিক্ষিত যুবকরা বেকার না থেকে ঘরে বসে এই ব্যবসা মাত্র ১০০০০ টাকা মূলধন বিনিয়োগ করে প্রতি মাসে ৫০০০-৬০০০ টাকা ইনকাম করতে পারে। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুক এখন অন্যতম মার্কেটিং সাইট হিসেবে কাজ করে। তাই একটা ফেসবুক পেজ করে সেখানে পন্যের ডিজাইনের ছবি আপলোড করে হোম ডেলিভারির মাধ্যমে খুব সহজেই ছেলেদের কাপড় বিক্রয় করা যেতে পারে। স্কুল, কলেজ, ইউনিভার্সিটির Rag day, reunion, tour এমনকি জন্মদিনের অনুষ্ঠানেও আজকাল একি ডিজাইনের টি শার্ট পড়ে অনুষ্ঠান উদযাপন করা হয়। তাই এরকম অর্ডার নিয়ে নিজেরা ডিজাইন করে টি শার্ট বিক্রি করতে পারলে ব্যবসাটি অনেক লাভজনক হবে।

২। কম্পিউটার কম্পোজঃ মাত্র কয়েকমাসে কম্পিউটার অফিসের উপর প্রশিক্ষণ নিয়ে করতে পারেন কম্পিউটার কম্পোজ ব্যবসা। দেশের জেলাশহর গুলোতে দেখা যায় রাস্তের পাশে দেয়ালে বিভিন্ন পোস্টার যেখানে লেখা থাকে “অল্প খরচেই কম্পিউটার কম্পোজ করা হয়”। আধুনিক যুগে এখন প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলেও কম্পিউটার কম্পোজের প্রয়োজনীয়তা বৃদ্ধি পেয়েছে। এখন হাতে লিখে চিটি পাঠানো হয় না। মফস্বল শহরের প্রাইভেট সেন্টার, স্কুল, কলেজের মডেল টেস্ট, প্রাইভেট স্কুলগুলোর পরীক্ষার প্রশ্নপত্র, সিলেবাস, বিভিন্ন নোট, ম্যাগাজিনের লেখালেখি এখন সর্বত্র বিরাজমান। তাই রাস্তের পাশে দেয়ালে পোস্টার লাগিয়ে ঘরে বসেই বেকার যুবকরা এই ব্যবসা করতে পারে। এই ব্যবসা শুরু করতে একটি কম্পিউটার এবং একটি প্রিন্টার। মাত্র ২০০০০ টাকা মূলধন বিনিয়োগ করে মাসে ৫০০০-৬০০০ টাকা ইনকাম করা সম্ভব।

৩। ওয়েল্ডিং এর কাজঃ পারিবারিক অস্বচ্ছলতার কারণে যারা পড়াশোনা করতে পারে না অথবা যারা পড়াশোনা না করে ব্যবসা করে নিজের পায়ে নিজে দাঁড়ানোর কথা ভাবছেন তাদের জন্য লাভজনক ব্যবসা হতে পারে ওয়েল্ডিং এর কাজ। মাত্র কয়েকমাস কোন গ্রিল ওয়ার্কসপে মনযোগ সহকারে ওয়েল্ডিং এর কাজ শিখে নিজে একটি দোকান নিলে মাত্র ৪০০০০ টাকা মূলধন খাটালে প্রতি দিন ১০০০ এর বেশী ইনকাম করা সম্ভব। তবে তার নিজস্ব ওয়ার্কসপ হবে ছোট পরিসর। যেখানে ছোট ছোট ওয়েল্ডিং কাজ সারতে পারবে।

৪। গাভী পালনঃ এক গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশে প্রতিবছর দুধের চাহিদা ১২.৫২ মিলিয়ন মেট্রিক টন। উৎপাদন হচ্ছে প্রতিবছর মাত্র ২.২৮ মিলিয়ন মেট্রিক টন। যা শতকরা হারে ২০ ভাগ এরও কম। বর্তমানে শংকর জাতের গাভী পালনের মাধ্যমে দুগ্ধ খামার স্থাপন অত্যন্ত লাভজনক ব্যবসা। তবে গাভী পালনে উন্নত ব্যবস্থাপনা, সঠিক প্রজনন,
সুষম খাদ্য, রোগদমন ও প্রাথমিক চিকিৎসা ও আধুনিক সম্পর্কে খামার উদ্যোক্তাদের জানা দরকার। এ ব্যাপারে উপজেলা পশু অধিদপ্তরের অভিজ্ঞ ডাক্তারদের সাথে পরামর্শ করা যেতে পারে। মাত্র ৫০০০০ টাকায় একটি বাছুরসহ গাভী কিনে প্রতিমাসে দুধ বিক্রয় করে ১০০০০ টাকা আয় করা সম্ভব।

৫। ক্যাটারিং ব্যবসাঃ এলাকা ভিত্তিক এই ব্যবসাটা সহজেই করা সম্ভব। তা ছাড়া এই ফিল্ডে শিক্ষিত ও রুচিশীল লোকের অভাব রয়েছে। উন্নত, বিশুদ্ধ, টাটকা খাবার সরবরাহ করে ভাল সেবা দিতে পারলে নাম ছড়িয়ে পড়বে ধীরে ধীরে ব্যবসা তখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। মফস্বল শহরের বিভিন্ন অফিসে, দোকানে নিয়মিত দুপুরের খাবার সরবরাহ করে, বিভিন্ন পার্টি অনুষ্ঠানে খাবার সরবরাহ করে মাসে প্রচুর টাকা আয় করা সম্ভব। এতে পুঁজি কম আয় বেশী।

৬। গিফট আইটেম ব্যবসাঃ গিফট আইটেমের দেশে খুব অভাব। যেকোন ইভেন্ট/অকেশনে সুন্দর গিফট দেবার কিছু পাওয়া যায়না। এই সবের একটা ব্যবসা করা যেতে পারে। এটি আবার অনলাইনেও বিক্রয় করা যেতে পারে। দেশী এবং পরিবেশবান্ধব (Green & Indigenous). পাটের আইটেম, মাটির আইটেম, কাপড়ের ওপর নকশী কাজ, চামড়ার আইটেম, ঘরে বানানো কাগজের গ্রিটিংস কার্ড (handmade paper), সিরামিকের ওপর নকশা, বাঁশের, বেতের আইটেম, শুকনো ফুল, উপহারের ঝুড়ি, বাচ্চাদের জন্মদিনে দেবার গিফট, ইত্যাদি। মুল্য অনুসারে এগুলোকে কয়েকটা ভাগ করা যেতে পারে। ১০০ টাকার আইটেমের গিফট বাক্স/২০০ টাকার বাক্স/৩০০ টাকার/৫০০ টাকার/১০০০ টাকার। গিফটা র‍্যাপিং করে দেয়া যেতে পারে, প্রাপককে গিফট পৌছে দেয়া যেতে পারে। একটা ব্রান্ডিং করে ফেলতে পারলে ভাল হয়।

৭। নার্সারী (পুরানো আইডিয়া, কিন্তু স্মার্ট)ঃ
ফল ও ফুল গাছের চারা উৎপাদন করা যেতে পারে। সাথে অর্কিডের চাষ। প্রচলিত নার্সারী থেকে একটু সরে গিয়ে ঘর সাজানো গাছপালা, বনসাই, বিভিন্ন রকমের ফল (ষ্টারফ্রুট, ষ্ট্রবেরী, চেরী, এভাকাডো, ইত্যাদি) খামার করা যেতে পারে।

৮। লন্ড্রী (ওয়াস, আয়রন) সার্ভিসেসঃ
কোনো নির্দিষ্ট একটি জায়গায় ওয়াসিং ও আয়রনিং প্ল্যান্ট স্থাপন করা যেতে পারে। নিজস্ব পরিবহন এবং জনবল দ্বারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে কাপড় সংগ্রহ করে এনে তা কাষ্টোমারের চাহিদা অনুযায়ী ওয়াস, আয়রন ইত্যাদি করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবার হোম ডেলিভারী দেয়া হবে। আবার ওয়াসিং প্ল্যান্ট না করে সাব কনটাক্টে অন্য জায়গা থেকে ওয়াস করিয়ে এনে শুধু আয়রন করিয়ে দিয়েও ব্যবসাটি শুরু করা যায়। এটি যদিও একটু ব্যয়বহুল কিন্তু একবার শুরু করলে অত্যন্ত লাভজনক ব্যবসায় পরিণত হবে।

৯। কবুতর পালনঃ বাণিজ্যিক ভিত্তিতে কবুতর পালন করে অধিক লাভবান হওয়া যায়। এটি যেমন একদিকে সৌখিন কাজ তেমনি অপরদিকে আয়ের উৎস। বাণিজ্যিকভাবে কবুতর পালন করতে উপজেলা প্রাণি সম্পদ অধিদপ্তরের চিকিৎসক থেকে পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে। বাড়ির একটা রুমে কিংবা ছাদে কবুতর পালন করা যেতে পারে। বিভিন্ন প্রজাতির কবুতরের চাহিদা প্রচুর।

১০। মিনি হ্যাচারীঃ বর্তমানে দেশে পোল্ট্রি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং লাভজনক ব্যবসা। পোল্ট্রি মুরগীর ডিম এবং মাংস বিক্রি করে অনেক লাভবান হওয়া সম্ভব। এছাড়াও কোয়েল পাখিও পোল্ট্রি হিসেবে পরিচিত। তাই কোয়েল পালন করেও লাভবান হওয়া যায়। পাশাপাশি ইনকিউবেটর দ্বারা হাঁস-মুরগি, কোয়েলের ডিম থেকে বাচ্চা ফোটানোর ব্যবসা করলে কোটিপতিও হওয়া যায়। প্রবল আগ্রহ আর পরিশ্রম করলে মিনি হ্যাচারী পরিচালনা করা সম্ভব।

About Tamzid20

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *