Home / উদ্যোক্তাদের নিয়ে / লোহাগাড়ার পোল্ট্রি শিল্পে যুক্ত হয়েছে সম্ভাবনাময় টার্কি মুরগীঃ

লোহাগাড়ার পোল্ট্রি শিল্পে যুক্ত হয়েছে সম্ভাবনাময় টার্কি মুরগীঃ

বাংলাদেশের পোল্ট্রি শিল্পে নতুন একটি নাম টার্কি। এটি টার্কি মুরগী নামেও পরিচিত। টার্কি মূলত মেলিয়াগ্রিস পরিবারের অন্তর্ভুক্ত এক ধরনের বড় পাখি। এক সময়ের টার্কি বন্য পাখী হলেও এখন তা গৃহে বা ফার্মে পালিত বড় আকারের পাখী । বাচ্চা অবস্থায় এগুলো দেখতে মুরগির বাচ্চার মতো। মেলিয়াগ্রিস গ্যালোপাভো প্রজাতির বুনো টার্কি উত্তর আমেরিকা ও মধ্য আমেরিকার বনাঞ্চলে বসবাস করে। গৃহপালিত টার্কি এই প্রজাতি থেকে ভিন্নতর। অন্য জীবিত প্রজাতির মধ্যে মেলিয়াগ্রিস ওসেলাটা বা চক্ষু আকৃতির চিহ্নবিশিষ্ট টার্কি আবাসস্থল হচ্ছে ইউকাতান উপ-দ্বীপের বনাঞ্চলে। বিশ্বের সর্বত্র টার্কি গৃহপালিত পাখি রূপে লালন-পালন করা হয়।

ব্রয়লার বা লেয়ার মুরগীর মতো এটি এখনো দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছে পৌঁছেনি। ব্রয়লার বা লেয়ারে বিভিন্ন কারণে লোকসানে পড়ার পর অনেক খামারী পোল্ট্রি খামার করতে অনিচ্ছুক। কিন্তু টার্কি দেশে পালন করে অনেকেই লাভবান হওয়ার পর আবারো মানুষ এই ব্যবসায় ফিরে আসছে। বিশেষ করে তরুন উদ্যোক্তাদের এই পেশায় অংশগ্রহণ লক্ষণীয় ও প্রশংসনীয়। তেমনি একজন তরুন উদ্যোক্তা এ.কে. তারেক চট্টগ্রাম জেলার লোহাগাড়া উপজেলার রোস্তমের পাড়ায় নিজের বাড়ির আঙিনায় ক্ষুদ্র পরিসরে গড়ে তুলেছেন টার্কির খামার। তাঁর এই ক্ষুদ্র খামারের নাম দিয়েছেন “লোহাগাড়া টার্কি ও কাদাকনাথ প্রজনন কেন্দ্র”। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমকে তিনি তাঁর টার্কি বিপণন স্থান হিসেবে গ্রহণ করেন। তিনি ফেসবুকে “লোহাগাড়া টার্কি প্রজনন কেন্দ্র” নামে একটি আইডির মাধ্যমে টার্কির প্রচারণা করেন। এছাড়াও দূর দূরান্তের অনেক নতুন উদ্যোক্তাদের তিনি এই আইডির মাধ্যমে পরামর্শ দিয়ে থাকেন। তাঁর এই কার্যক্রম লোহাগাড়ার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিসমৃদ্ধ ওয়েবসাইট Lohagarabd.com টীমের নজরে আসে। তাই www.lohagarabd.com এর একটি টীম তাঁর এ খামার পরিদর্শন করে। তিনি চাকুরীর পাশাপাশি এই খামার পরিচালনা করেন। উনার ছোট ভাই মোহাম্মদ তানজিব পড়াশোনার পাশাপাশি খামার দেখাশোনা করেন। এ.কে. তারেকের এই পারিবারিক  টার্কি খামারে রয়েছে প্রায় ২০ জোড়া টার্কি। সম্প্রতি তিনি টার্কি খামারে প্রাথমিকভাবে কাদাকনাথ বা কাল মাংসের মুরগীও পালন শুরু করেছেন। প্রতিদিন এখান থেকে যে ডিম সংগ্রহ করা হয় সেগুলো আবার ইনকিউবেটরের মাধ্যমে ডিম ফুটানো হয়। তাঁর খামারে ২টি ইনকিউবেটর রয়েছে। একটি অটোমেটিক এবং একটি ম্যানুয়াল ইনকিউবেটর। তিনি এখন ম্যানুয়াল ইনকিউবেটরে প্রতিদিন ডিম দেন। এই ইনকিউবেটর থেকে ডিমগুলো ২৮ দিন পর বাচ্চা হয়ে বের হয়। ইতিমধ্যে প্রতিদিন আশেপাশে বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন তার খামার পরিদর্শন করতে আসে। অনেকেই তাঁর কাছ থেকে বিভিন্ন বয়সের টার্কি কিনে নিয়ে পালন করে। এই খামার করার প্রতি তিনি কিভাবে উদ্বুদ্ধ হলেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, অনলাইনের মাধ্যমে তিনি টার্কি সম্পর্কে ধারনা নেন। সেখান থেকে শখের বসে মূলত তিনি টার্কি পালন শুরু করেন। ভবিষ্যতে তার বড় পরিসরে এগ্রো ফার্ম করার ইচ্ছে রয়েছে বলে তিনি জানান। তিনি এলাকার তরুনদের যারা টার্কি খামার করতে আগ্রহী তাঁদেরকে বিভিন্ন পরামর্শ দিবেন এমন ইচ্ছে প্রকাশ করেন।

About Tamzid20

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *