Home / আলোকিত ব্যক্তিত্ব / লোহাগাড়ার সন্তান ডা. বিদ্যুৎ বড়ুয়া ও চট্টগ্রাম ফিল্ড হাসপাতাল

লোহাগাড়ার সন্তান ডা. বিদ্যুৎ বড়ুয়া ও চট্টগ্রাম ফিল্ড হাসপাতাল

সারা বিশ্ব ব্যাপী চলছে ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ এক মহামারী। সামান্য এক ভাইরাস সারা পৃথিবীতে সমানে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। এর ভয়ে সারা বিশ্বে বিরাজমান করছে এক আতঙ্ক। কেনই বা মানুষ আতঙ্কিত হবে না। যে ভাইরাস কারো শরীরে একবার সংক্রমণ করলে যদি সে ভাইরাস মানুষের শরীরে থাকা এন্টিবডির সাথে যুদ্ধ করে সেই যুদ্ধে জয় লাভ করতে পারে তাহলে মানুষের মৃত্যু অনিবার্য হয়ে পড়ে। এ কোনো কামান বা বন্দুক যুদ্ধ নয়। অদৃশ্য এক ভাইরাসের সাথে মানুষের শরীরের যুদ্ধ। এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করার মতো সঠিক ও পর্যাপ্ত চিকিৎসা এখনো পর্যন্ত মানুষ আবিস্কার করতে পারেনি। করোনার বিরুদ্ধে কোনো ওষুধ বা ভ্যাকসিন এখনো আবিষ্কার হয়নি। বিশ্বের যে দেশগুলো ভাইরাস, চিকিৎসা গবেষণায় এগিয়ে আছে তাঁরা পর্যন্ত এই ভাইরাসের প্রতিরোধক বা প্রতিষেধক কোনো  মিডিসিন বা ভ্যাকসিন আবিস্কার করতে হিমশিম খাচ্ছে। সারা বিশ্বের স্বাস্থ্য খাত, অর্থনীতি পর্যন্ত আজ হুমকির মুখে। এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে কোনো ফলপ্রসু পদক্ষেপ নিতে পুরো মানবজাতি যেন অক্ষম। তবুও চিকিৎসার সাথে যাঁরা জড়িত অর্থাৎ সংশ্লিষ্ট ডাক্তার, নার্স অন্যান্য স্বাস্থ্য কর্মী, বিভিন্ন এনজিও সংস্থা, বিভিন্ন সংগঠন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এই করোনা ভাইরাসের মোকাবেলার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। পৃথিবীর প্রতিটি রাষ্ট্র-ই এর বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা তাঁর গবেষক দলকে সক্রিয় রেখেছে। তাঁরা প্রতিনিয়ত গবেষণা করে প্রতিটি দেশকে অবজারভেশনে রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এবং তাঁর দায়িত্বের জায়গা থেকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিচ্ছে ও নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এই উদ্যোগ প্রশংসনীয়।

এতক্ষণ যে ভাইরাসের কথা বলা হয়েছে সে ভাইরাসটি হচ্ছে করোনা ভাইরাস বা কোভিড-১৯। ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর চীনের উহান শহরে করোনাভাইরাসের একটি প্রজাতির সংক্রামণ দেখা দেয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ভাইরাসটিকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ‘২০১৯-এনসিওভি’ নামকরণ করে।

করোনাভাইরাস মূলত ১৯৬০-এর দশকে প্রথম আবিষ্কৃত হয়। প্রথমদিকে মুরগির মধ্যে সংক্রামক ব্রঙ্কাইটিস ভাইরাস হিসেবে এটি প্রথম দেখা যায়। পরে সাধারণ সর্দি-হাঁচি-কাশিতে আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে এরকম দুই ধরনের ভাইরাস পাওয়া যায়। মানুষের মধ্যে পাওয়া ভাইরাস দুটি ‘মনুষ্য করোনাভাইরাস ২২৯ই’ এবং ‘মনুষ্য করোনাভাইরাস ওসি৪৩’ নামে নামকরণ করা হয়। তবে অনেকের সন্দেহ যে এই ভাইরাসটি চীন সরকার তার দেশের গরিব জনগনকে শেষ করে দেওয়ার জন্য নিজেরাই তৈরি করে নিজেরাই ছড়িয়ে ছিলো। এরপর থেকে বিভিন্ন সময় ভাইরাসটির আরো বেশ কিছু প্রজাতি পাওয়া যায় যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ২০০৩ সালে ‘এসএআরএস-সিওভি’, ২০০৪ সালে ‘এইচসিওভি এনএল৬৩’, ২০০৫ সালে ‘এইচকেইউ১’, ২০১২ সালে ‘এমইআরএস-সিওভি’ এবং সর্বশেষ ২০১৯ সাল চীনে এসএআরএস-সিওভি-২’ পাওয়া যায়(যা বর্তমানে সাধারণত নোভেল করোনাভাইরাস নামেই পরিচিত। এগুলোর মধ্যে অধিকাংশ ভাইরাসের ফলে শ্বাসকষ্টের গুরুতর সংক্রমণ দেখা দেয়।

শুরুতে করোনা ভাইরাস চীনের বিভিন্ন শহরে আক্রমণ করলেও পরবর্তীতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এই ভয়ঙ্কর ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়লে একটি বৈশ্বিক মহামারীতে রূপ নেয়। এর ভয়াল থাবা থেকে আমাদের দেশও বাদ পড়েনি। চীন থেকে প্রথম উৎপত্তি হওয়ার পর; বাংলাদেশে সর্বপ্রথম এই কোভিড-১৯ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির কথা প্রথম জানা যায় ৮ই মার্চ, ২০২০ তারিখে। কোভিড-১৯ আক্রান্ত হওয়া প্রথম ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করেন ১৮ মার্চ ২০২০ তারিখে। বাংলাদেশে করোনা সংক্রমণের পর দেশের মানুষের মধ্যে এক ধরণের আতঙ্ক কাজ করে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কর্তৃক বিভিন্ন নির্দেশনা আসতে থাকে। তবুও শুরুর দিকে আমাদের দেশের সাধারণ মানুষ অতটা পাত্তা না দিলেও পরবর্তীতে যখন এই ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বাড়তে থাকে। তখন মানুষ কিছুটা সচেতন হয়। সরকার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে যাতে দেশের মানুষকে ঘরে রাখা যায়। সরকার কয়েক দফায় লকডাউনও দেয়। রাস্তায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করে মানুষকে ঘরে রাখার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। দেশ লকডাউন হওয়ার ফলে দেশের কলকারখানা, সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি ব্যাবসায়ী প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ হয়ে যায়। যার ফলে মানুষ কর্মহারা হয়ে পড়ে। এই কর্মহারা জনগোষ্ঠীর জন্য সরকার নানামুখি পদক্ষেপ নিয়েছে। চতুর এই ভাইরাস থেকে আত্মরক্ষার জন্য বিশ্বের অধিকাংশ দেশ-ই ব্যস্ত। এই ভাইরাসের সাথে লড়াই করতে যেখানে বিশ্বের সামনের কাতারের উন্নত দেশগুলো ব্যর্থ সেখানে আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশকে এর সাথে লড়াই করে জয়লাভ করা কতটা দুঃসাধ্য হতে পারে অনেক বিশেষজ্ঞরা এটিকে এমন দৃষ্টিতেই দেখছেন। তবে এর বিরুদ্ধে লড়াই করতে সরকার যেমন থেমে থাকেনি তেমনি আমাদের দেশের ডাক্তার, নার্স ও বিভিন্ন স্বাস্থ্য কর্মী, কিছু হাসপাতাল ও কিছু উদ্যোগী, উদ্যমী, সাহসী মানুষেরাও থেমে নেই। সবাই যে যাঁর অবস্থান থেকে এই ভাইরাস প্রতিরোধে কাজ করে যাচ্ছে। কেবল চিকিৎসা নয় দেশের অর্থনীতিতে এর বিস্তর প্রভাব পড়ছে। এই দিকটিও সরকার ও জনগণকে সামাল দিতে হচ্ছে। যাঁরা প্রকৃতপক্ষে চিন্তাশীল তাঁরা শুধু সরকারের সমালোচনা নয়; বরং সরকারের পাশে দাঁড়িয়ে এই পরিস্থিতিকে সামাল দিতে নানা উদ্যোগ হাতে নিতে আমরা দেখেছি।

করোনা চিকিৎসা দিতে দেশের যে প্রচলিত হাসপাতালগুলো রয়েছে সেগুলো যথেষ্ট নয়। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা দিতে বিশেষ কিছু স্বাস্থ্য সরঞ্জামের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। এই দিকটি বিবেচনা করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে করোনা রোগের চিকিৎসা দেওয়ার জন্য গড়ে উঠেছে বিশেষায়িত হাসপাতাল। তার মধ্যে ফিল্ড হাসপাতাল নামে কিছু হাসপাতাল বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। এসব হাসপাতালে চিকিৎসা দিয়ে অনেক দেশ সফলও হচ্ছে। বাংলাদেশেও এই ধরণের ফিল্ড হাসপাতাল নির্মাণ করা হয়। বাংলাদেশের বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামে সর্বপ্রথম গড়ে উঠে বিশাল এক ফিল্ড হাসপাতাল। এই হাসপাতাল গড়ে উঠার পেছনে রয়েছে একজন অভিজ্ঞ ডাক্তারের নিরলস পরিশ্রম। তিনি হলেন চট্টগ্রাম জেলার লোহাগাড়া উপজেলার কৃতি সন্তান ডা. বিদ্যুৎ বড়ুয়া। একজন তরুণ ডাক্তারের একার পক্ষে এত বড় একটি উদ্যোগ নেওয়া মোটেও সহজ ছিলো না। তবুও তাঁর প্রবল সাহসিকতায় এই হাসপাতাল গড়ে উঠে। তিনি এই হাসপাতাল করার পূর্বে ফেসবুক স্ট্যাটাসের মাধ্যমে তাঁর এই উদ্যোগের কথা সবার সাথে শেয়ার করেন। তিনি সবার কাছে আর্থিক সহযোগিতা চান। হাসপাতালের স্বত্বাধিকারী যেন সাধারণ মানুষেরা হয় তার জন্য তিনি সাধারণ মানুষ থেকেও এই অর্থ সংগ্রহ করেন। এমনকি রিক্সাওয়ালা, ভ্যান চালকসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষ এতে অংশ নেন। তিনি সবাইকে অন্তত ১০০ টাকা দানের মাধ্যমে হলেও এই হাসপাতালের নির্মাণ কাজে হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান। অবশেষে তাঁর ফিল্ড হাসপাতাল নির্মাণের তহবিলে বেশ কিছু অর্থ জমা হয়। তিনি রাতারাতি হাসপাতাল নির্মাণের স্থান নির্ধারণ করার জন্য সমাজের বিত্তবানদের নিকট সহযোগিতা চান। অবশেষে হাসপাতাল নির্মাণের জন্য জায়গা দেওয়ার সহয়তায় এগিয়ে আসে দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্প প্রতিষ্ঠান নাভানা গ্রুপ। চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড থানার সলিমপুরে প্রতিষ্ঠানটির আফতাব অটোমোবাইলস লিমিটেড’র ৬৮০০ বর্গফুটের দুই তলা একটি ভবনে এই হাসপাতালে ৫০-৬০ টি শয্যা থাকবে। অনেকেই অনেক অর্থ সাহায্য নিয়ে বিদ্যুৎ বড়ুয়ার পাশে দাঁড়িয়েছেন। এরপর আর তাকে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। চিকিৎসা সরঞ্জাম কিনে ঐ ভবনকে একটি অত্যাধুনিক হাসপাতালে রূপ দেন। অনেক চিকিৎসক, স্বেচ্ছাসেবী নিজে থেকে এসেই যোগ দিচ্ছেন ফিল্ড হাসপাতালে। ডাক্তার বিদ্যুৎ বড়ুয়া এমন একটি উদ্যোগ না নিয়ে কোন একটি হাসপাতালে রোগী সেবা দিয়েও এই সংকটে মহানুভবতার পরিচয় দিতে পারতেন। কিন্তু তিনি সে দায়িত্বকে যথেষ্ঠ মনে করলেন না। ভাবলেন, মহামারী থেকে মানুষ বাঁচাতে হলে জরুরি সেবা এবং সময়োপযোগী চিকিৎসা ব্যবস্থা প্রয়োজন। তার জন্য প্রয়োজন বাড়তি স্থান এবং চিকিৎসা সরঞ্জাম। তিনি সেটিই করে একজন বিচক্ষণ সমাজ সেবকের পরিচয় দেন।

ডা. বিদ্যুৎ বড়ুয়া ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাশ করে সুইডেনে উচ্চতর ডিগ্রি নিয়েছেন জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা (পাবলিক হেলথ ম্যানেজমেন্ট) বিষয়ে। একসময় তিনি ছাত্র রাজনীতির সাথে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজের ছাত্র থাকাবস্থায় তিনি ঢামেকসুর ভিপি নির্বাচিত হয়েছিলেন, সুতরাং নেতৃত্বদানের গুণটি তাঁর সহজাত।

ডা. বিদ্যুৎ বড়ুয়া চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার বড়হাতিয়ার বীর মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট সুনীল বড়ুয়ার ছেলে ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ও আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়ার ছোট ভাই। তিনি ১৯৯০ সালে মাধ্যমিক পাশ করেন। স্কুল জীবনে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সাথে কাজ করেন। ১৯৯২ সালে ঢাকার রেসিডেন্সি কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেন। এরপর ভর্তি হন ঢাকা মেডিকেল কলেজে। সেখানেও বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও সেবামূলক সংগঠনের প্রতিনিধি হয়ে কাজ করেন। সেখান থেকে মূলত দেশের সেবা করার এই চিন্তা তাঁর মধ্যে আসে। ১৯৯৮ সালের বন্যার সময় ঢাকা মেডিকেল কলেজে বন্যায় কবলিত মানুষদের জন্য রুটি ও খাওয়ার স্যালাইন তৈরির জন্য অস্থায়ী ক্যাম্প করেন। এরপর তিনি যুক্ত হয় ছাত্র রাজনীতির সাথে। বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ঢাকা মেডিকেল কলেজের প্রচার সম্পাদক ৯৬ , ছাত্রসংসদ ( ঢাকা মেডিকেল কলেজ ছাত্রসংসদ ) এর সাহিত্য সম্পাদক ৯৭ , বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ঢাকা মেডিকেল কলেজ এর আহ্বায়ক ৯৮, ছাত্রসংসদ (ঢাকা মেডিকেল কলেজ ছাত্রসংসদ) ৯৯-২০০০ এর ভিপি নির্বাচিত হন।

২০০০ সালে ভিপি নির্বাচিত হয়ে তৎকালীন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে গণভবনে সাক্ষাৎ করেন। এরপর তিনি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন মেডিকেল অফিসার হিসেবে যোগদান করেন। ২০০৩ সালে টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের জন্মবার্ষিকীতে স্বাচিপ আয়োজিত হেলথ ক্যাম্পে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। পাবলিক হেলথ বিষয়ে সুইডেনের বিখ্যাত কারোলিন্সকা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম.ডি ও এম পি এইচ ডিগ্রি অর্জন করেন।  পরবতীতে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে রিসার্চ এসিস্টেন্ট হিসেবে কাজ করেন। এছাড়া ডেনমার্কের অরহুস বিশ্ববিদ্যালয়েও  রিসার্চ এসিস্টেন্ট হিসেবে কাজ করেন। কর্মজীবনে তিনি জনস্বাস্থ্য বিষেশজ্ঞ হিসেবে কাজ করছেন। প্রবাসে থাকা কালীন ডেনমার্ক আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে নিষ্ঠার সাথে কাজ করেন। এছাড়া জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য ছিলেন।  এবং আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য হিসেবে কাজ করেছেন।

বর্তমানে পাবলিক হেলথ ফ্যাকাল্টি হিসাবে আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশে কাজ করছেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি দুই সন্তানের জনক। বিদ্যুৎ বড়ুয়া করোনা মহামারীর আগে স্ত্রী, সন্তান নিয়ে ডেনমার্কে থাকতেন। কিন্তু দেশের এমন ক্রান্তিলগ্নে তিনি দেশে ফিরে এসে দেশ মাতৃকার জন্য কাজ করার স্বীদ্ধান্ত নেন। চট্টগ্রামের সকল শ্রেণির মানুষকে করোনা থেকে বাঁচাতে রাতারাতি গড়ে তুললেন চট্টগ্রাম ফিল্ড হাসপাতাল। বাংলাদেশের ইতিহাসে তাই তাঁর এই দুঃসাহসিক উদ্যোগ সোনালী অক্ষরে লেখা থাকবে। জাতির এই দুঃসময়ে তাঁর এই মহতী উদ্যোগের জন্য লোহাগাড়ার সর্বস্তরের জনসাধারণ তাকে নিয়ে গর্ববোধ করেন।

তথ্যসূত্র:

www.ekushey-tv.com

www.prothomalo.com

Wikipedia

About Tamzid20

Check Also

প্রফেসর ড. মুঈন উদ-দীন আহমদ খান

চট্টগ্রাম জেলার লোহাগাড়া উপজেলার এক ঐতিহ্যমণ্ডিত শিক্ষিত সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবার “ডিপুটি বাড়ি”-তে জন্ম নেন প্রখ্যাত …

মরহুম মৌলানা মুসলিম খাঁন স্মরণে

লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি গ্রামের আরেক কীর্তিমান পুরুষ, অনুসরণীয় সমাজ সেবক, অপরিসীম জ্ঞান ও মেধাসম্পন্ন, বহুমূখী …

মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের কবি নওয়াজিশ খান

নওয়াজিশ খানের রোমান্সমূলক প্রেমকাহিনী হিসেবে গুলে বকাওলী যে তখন খুবই জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল এসব দৃষ্টান্তে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *