Home / স্মৃতিচারণ / একটি অপ্রকাশিত ডায়েরীর কথা | আরকেএম সাইফুল ইসলাম

একটি অপ্রকাশিত ডায়েরীর কথা | আরকেএম সাইফুল ইসলাম

বায়তুশ শরফের মরহুম পীর ছাহেব বাহারুল উলুম হযরত শাহ মাওলানা কুতুবউদ্দিন (রাহঃ) ছিলেন বায়তুশ শরফের প্রাণ প্রতিষ্ঠাতা পীরে কামেল শাহ ছুফী হযরত মাওলানা মীর মোহাম্মদ আখতার (রাহঃ) এর প্রত্যক্ষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মুরিদ। ১৯৭১ সালের ৫ই ফেব্রুয়ারী পবিত্র মক্কা নগরীতে হযব্রত পালনরত অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করলে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন হাদীয়ে জামান হযরত শাহ মাওলানা মোহাম্মদ আবদুল জব্বার (রাহঃ)।হযরত মাওলানা কুতুব উদ্দিন(রাহঃ) তাঁর হাতে বায়াত নবায়ন করেন। ১৯৯৮ সালের ২৫ শে মার্চ হযরত শাহ মাওলানা আবদুল জব্বার(রাহঃ)এর ইন্তেকালের পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত তিনি তাঁর ছায়াসঙ্গী স্বরূপ নিজেকে নিয়োজিত রাখেন। অতঃপর তিনি তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন।

বাহরুল উলুম ছাহেব(রাহঃ) ছিলেন একজন স্বভাব কবি। কবিতা ছাড়াও নিয়মিত ডায়েরি লিখা ছিল তাঁর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাস।ডায়েরী লিখার ব্যাপারে হযরত শাহ মাওলানা মীর মোহাম্মদ অাখতর (রাহঃ) তাঁর নৈকট্যপ্রাপ্ত মুরিদদেরকে তাক্বিদ দিতেন বলে শুনেছি অামার মরহুম অাব্বা এবং মরহুম বড় দুলা ভাইয়ের নিকট। হযরত কেবলা রাহঃ উনাদেরকেও নাকি ডায়েরি লিখার জন্যে পরামর্শ দিতেন। উল্লেখ্য আমার আব্বাজান ১৯৩৬ সালে হযরত কেবলার হাতে বায়াত গ্রহণ করেন। তিনি বলতেন তিনিই হযরত কেবলা রাহঃ এর প্রথম মুরিদ। বড় দুলাভাই সুদীর্ঘ দশ বছর হযরত কেবলার একান্ত খাদেম ছিলেন। উনাদের থেকে যা শুনেছি তাতে অামার মনে হয়েছে ডায়রী লিখাকে হযরত কেবলা খুব গুরুত্ব দিতেন।

১৯৮৯ সালের ১৬ ই জুলাই মরহুম হুজুর কেবলা হযরত শাহ মাওলানা মোহাম্মদ আবদুল জব্বার(রাহঃ)এর নিকট বায়াত গ্রহণের মাধ্যমে বায়তুশ শরফের সাথে অামার সম্পৃক্ততার শুরু। এই সময় থেকে বায়তুশ শরফের যত কর্মসূচীতে অামার থাকার সুযোগ হয়েছে তাতে দেখেছি বাহারুল উলুম ছাহেব(রাহঃ)এর হাতে একটি ডায়রী। মরহুম হুজুর কেবলার(রাহঃ) মূল্যবান বয়ান তিনি নিরবে লিখে যেতেন আপনমনে। তাছাড়া গুরুত্বপূর্ণ বক্তাদের বক্তৃতার সার সংক্ষেপও তাঁকে লিখতে দেখা যেত।

বায়তুশ শরফে যে কোন গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচী বাস্তবায়নের পূর্বে প্রস্তুতিমূলক পরামর্শ সভা করার নিয়ম চালু আছে। এ সকল সভায় উপস্থিত থাকার জন্যে আমি আপ্রাণ চেষ্টা করতাম।একবার এরূপ এক সভায় বাহারুল উলুম ছাহেব (রাহঃ) আক্ষেপ করে বললেন, তাঁর দু’টো জিনিস তিনি কাকে দিয়ে যাবেন তা নিয়ে চিন্তিত।একটা হলো তাঁর রচিত কবিতা সমগ্র এবং অপরটি তাঁর স্বহস্তে লিখা মূল্যবান ডায়েরী। সুখের বিষয় হলো কবিতা সমুহের মধ্য হতে অনেক, গুলো সন্নিবেশিত করে “গুলহায়ে অাক্বিদত” নামে প্রকাশিত হয়েছে। তথাপিও অসংখ্য কবিতা এখনও অগ্রন্থিত অবস্থায় রয়েছে বলে শুনেছি হুজুরের ছাহেবজাদা মাওলানা ছলাহউদ্দিন বেলাল এর নিকট। সেগুলোও গুলহায়ে আক্বিদতের মতো আলোর মুখ দেখুক সেটাই প্রত্যাশিত। কিন্তু কথিত সেই ডায়েরীর ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট কোন তথ্য জানা যায় নি। সেটাও যদি কোনদিন আলোর মুখ দেখে তাহলে তা মুসলিম উম্মার জন্যে মহামূল্যবান এক সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হবে নিঃসন্দেহে।

লেখক: আরকেএম সাইফুল ইসলাম

About Tamzid20

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *